২০১৮ সালে জাতীয় দৈনিক ‘দৈনিক এই আমার দেশ’-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতা জগতে যাত্রা শুরু করেন সারজিদ আহমেদ অপু। পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, অনুসন্ধান, সংবাদ উপস্থাপন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন তিনি।
সাংবাদিকতার প্রাথমিক পর্যায়েই সংবাদমাধ্যমের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হন। সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের পরিধি বিস্তৃত হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ের একাধিক সংবাদপত্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তাঁর কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দৈনিক এই আমার দেশ, দৈনিক জনতার ইশতেহার, দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ, সমতল এবং দৈনিক মাতৃভূমির খবরসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কাজের মধ্য দিয়ে সংবাদ সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
সারজিদ আহমেদ অপুর সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত থাকার সময়কাল। জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতার পর তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও নিজের কর্মপরিধি বিস্তৃত করেন।
মালয়েশিয়ায় নিউজ ২১ বাংলা টেলিভিশনের প্রতিনিধি হিসেবে টানা তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়ে তাঁর সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন, সংগ্রাম, অধিকার এবং নানামুখী সমস্যা।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রতিনিয়ত যেসব বাস্তবতার মুখোমুখি হন, সেসব বিষয় সংবাদ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। কর্মক্ষেত্রের জটিলতা, প্রবাসীদের ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম, বিভিন্ন প্রতিকূলতা, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রবাসজীবনের অজানা বাস্তবতা তাঁর প্রতিবেদনে গুরুত্ব পায়।
প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ ও অধিকারসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও পরিচিতি অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং দেশের বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবন ও বাস্তবতা কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি করেছে।
সারজিদ আহমেদ অপুর সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান আগ্রহের জায়গা অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকতা বা ক্রাইম বিট। সমাজের অনিয়ম, অপরাধ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের প্রতি অবিচারের মতো বিষয়গুলো তাঁর প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাঁর সাংবাদিকতার দর্শনে জনস্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তিনি সাংবাদিকতার সামাজিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।
তবে অপরাধ সাংবাদিকতায় সাহসিকতার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা, নিরপেক্ষতা, প্রমাণনির্ভরতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের গুরুত্বও অপরিসীম। এসব পেশাগত মানদণ্ডকে সামনে রেখে সাংবাদিকতার পরিসর আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর দেশে ফিরে জাতীয় দৈনিক মুখপাত্র পত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সারজিদ আহমেদ অপু। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অপরাধ, সামাজিক অসঙ্গতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা এবং সংবাদ পরিবেশনার অভিজ্ঞতা তাঁকে গণমাধ্যমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়।
পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হয়েছেন সারজিদ আহমেদ অপু। তিনি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা মহানগর কোর কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার বিকাশে সাংগঠনিক ভূমিকার গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর এই দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকতা এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরির চিন্তাধারা থেকেই তিনি সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রযুক্তিগত বিকাশেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
সারজিদ আহমেদ অপুর সাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিজস্ব অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি স্টেট পোস্ট’ প্রতিষ্ঠা। প্রচলিত সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক, তথ্যনির্ভর এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন গণমাধ্যম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বর্তমানে তিনি ডেইলি স্টেট পোস্টের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর এই উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো, সংবাদমাধ্যমকে শুধু সংবাদ প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য কাজের সুযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংবাদ পরিবেশনার একটি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা।
নিজস্ব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে একজন সংবাদকর্মী থেকে গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর নতুন পরিচয়ের সূচনা হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি একটি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় ব্যবস্থাপনা, প্রকাশনা, প্রযুক্তিগত কাঠামো এবং সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বও এখন তাঁর কর্মপরিধির অংশ।
সারজিদ আহমেদ অপুর কাছে সাংবাদিকতা কেবল পরিচিতি কিংবা পেশাগত অবস্থান তৈরির মাধ্যম নয়; বরং মানুষের জন্য কাজ করার একটি দায়িত্বশীল ক্ষেত্র। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং জনস্বার্থের বিষয়টি।
তিনি বলেন, “সবার আগে আমার দেশ। দেশের পক্ষে কিছু করতে পারা আমার জন্য গর্বের বিষয়। মানুষের পক্ষে কিছু করতে পারলে মানসিক শান্তি পাই। দেশ ও মানুষের কল্যাণে আমি সর্বদা নিয়োজিত থাকতে চাই।”
এই বক্তব্যের মধ্যেই তাঁর সাংবাদিকতার ব্যক্তিগত দর্শন ও কর্মপ্রেরণার প্রতিফলন পাওয়া যায়।
২০১৮ সালে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে শুরু হওয়া সাংবাদিকতার যাত্রা আজ জাতীয় গণমাধ্যম, আন্তর্জাতিক টেলিভিশন, সাংবাদিক সংগঠন এবং নিজস্ব অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার পর্যায়ে পৌঁছেছে। পথচলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা, মালয়েশিয়ায় প্রবাসী সাংবাদিকতা, অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
সারজিদ আহমেদ অপুর এই পথচলা একজন তরুণ সাংবাদিকের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি গণমাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠারও একটি উদাহরণ। তবে সাংবাদিকতার প্রকৃত সাফল্য শুধু পদবি, পরিচিতি কিংবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন, বস্তুনিষ্ঠতা, সাহসিকতা, পেশাগত সততা এবং মানুষের আস্থা অর্জনের মধ্যেই নিহিত।
সামনের দিনগুলোতে সাংবাদিকতার এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখাই তাঁর প্রত্যাশা। সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রযুক্তি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সমন্বয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরির যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন, তার সফল বাস্তবায়নই হতে পারে তাঁর আগামী দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
২০১৮ সালে জাতীয় দৈনিক ‘দৈনিক এই আমার দেশ’-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতা জগতে যাত্রা শুরু করেন সারজিদ আহমেদ অপু। পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, অনুসন্ধান, সংবাদ উপস্থাপন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন তিনি।
সাংবাদিকতার প্রাথমিক পর্যায়েই সংবাদমাধ্যমের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হন। সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের পরিধি বিস্তৃত হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ের একাধিক সংবাদপত্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তাঁর কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দৈনিক এই আমার দেশ, দৈনিক জনতার ইশতেহার, দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ, সমতল এবং দৈনিক মাতৃভূমির খবরসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কাজের মধ্য দিয়ে সংবাদ সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
সারজিদ আহমেদ অপুর সাংবাদিকতা জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত থাকার সময়কাল। জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতার পর তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও নিজের কর্মপরিধি বিস্তৃত করেন।
মালয়েশিয়ায় নিউজ ২১ বাংলা টেলিভিশনের প্রতিনিধি হিসেবে টানা তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়ে তাঁর সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন, সংগ্রাম, অধিকার এবং নানামুখী সমস্যা।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রতিনিয়ত যেসব বাস্তবতার মুখোমুখি হন, সেসব বিষয় সংবাদ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। কর্মক্ষেত্রের জটিলতা, প্রবাসীদের ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম, বিভিন্ন প্রতিকূলতা, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রবাসজীবনের অজানা বাস্তবতা তাঁর প্রতিবেদনে গুরুত্ব পায়।
প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ ও অধিকারসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও পরিচিতি অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং দেশের বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবন ও বাস্তবতা কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি করেছে।
সারজিদ আহমেদ অপুর সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান আগ্রহের জায়গা অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকতা বা ক্রাইম বিট। সমাজের অনিয়ম, অপরাধ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের প্রতি অবিচারের মতো বিষয়গুলো তাঁর প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাঁর সাংবাদিকতার দর্শনে জনস্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তিনি সাংবাদিকতার সামাজিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।
তবে অপরাধ সাংবাদিকতায় সাহসিকতার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা, নিরপেক্ষতা, প্রমাণনির্ভরতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের গুরুত্বও অপরিসীম। এসব পেশাগত মানদণ্ডকে সামনে রেখে সাংবাদিকতার পরিসর আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর দেশে ফিরে জাতীয় দৈনিক মুখপাত্র পত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সারজিদ আহমেদ অপু। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অপরাধ, সামাজিক অসঙ্গতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা এবং সংবাদ পরিবেশনার অভিজ্ঞতা তাঁকে গণমাধ্যমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়।
পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হয়েছেন সারজিদ আহমেদ অপু। তিনি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা মহানগর কোর কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার বিকাশে সাংগঠনিক ভূমিকার গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর এই দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকতা এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরির চিন্তাধারা থেকেই তিনি সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রযুক্তিগত বিকাশেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
সারজিদ আহমেদ অপুর সাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিজস্ব অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি স্টেট পোস্ট’ প্রতিষ্ঠা। প্রচলিত সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক, তথ্যনির্ভর এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন গণমাধ্যম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বর্তমানে তিনি ডেইলি স্টেট পোস্টের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর এই উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো, সংবাদমাধ্যমকে শুধু সংবাদ প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য কাজের সুযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংবাদ পরিবেশনার একটি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা।
নিজস্ব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে একজন সংবাদকর্মী থেকে গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর নতুন পরিচয়ের সূচনা হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি একটি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় ব্যবস্থাপনা, প্রকাশনা, প্রযুক্তিগত কাঠামো এবং সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বও এখন তাঁর কর্মপরিধির অংশ।
সারজিদ আহমেদ অপুর কাছে সাংবাদিকতা কেবল পরিচিতি কিংবা পেশাগত অবস্থান তৈরির মাধ্যম নয়; বরং মানুষের জন্য কাজ করার একটি দায়িত্বশীল ক্ষেত্র। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং জনস্বার্থের বিষয়টি।
তিনি বলেন, “সবার আগে আমার দেশ। দেশের পক্ষে কিছু করতে পারা আমার জন্য গর্বের বিষয়। মানুষের পক্ষে কিছু করতে পারলে মানসিক শান্তি পাই। দেশ ও মানুষের কল্যাণে আমি সর্বদা নিয়োজিত থাকতে চাই।”
এই বক্তব্যের মধ্যেই তাঁর সাংবাদিকতার ব্যক্তিগত দর্শন ও কর্মপ্রেরণার প্রতিফলন পাওয়া যায়।
২০১৮ সালে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে শুরু হওয়া সাংবাদিকতার যাত্রা আজ জাতীয় গণমাধ্যম, আন্তর্জাতিক টেলিভিশন, সাংবাদিক সংগঠন এবং নিজস্ব অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার পর্যায়ে পৌঁছেছে। পথচলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা, মালয়েশিয়ায় প্রবাসী সাংবাদিকতা, অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
সারজিদ আহমেদ অপুর এই পথচলা একজন তরুণ সাংবাদিকের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি গণমাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠারও একটি উদাহরণ। তবে সাংবাদিকতার প্রকৃত সাফল্য শুধু পদবি, পরিচিতি কিংবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন, বস্তুনিষ্ঠতা, সাহসিকতা, পেশাগত সততা এবং মানুষের আস্থা অর্জনের মধ্যেই নিহিত।
সামনের দিনগুলোতে সাংবাদিকতার এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখাই তাঁর প্রত্যাশা। সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রযুক্তি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সমন্বয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরির যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন, তার সফল বাস্তবায়নই হতে পারে তাঁর আগামী দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

আপনার মতামত লিখুন