CHANNEL H TV

তোতলা আজিজ’কে ঘিরে ফেক আইডি বিতর্ক: সাইবার তদন্তের মধ্যেই বক্তব্য, সাংবাদিক আজিম মিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধের অভিযোগ



তোতলা আজিজ’কে ঘিরে ফেক আইডি বিতর্ক: সাইবার তদন্তের মধ্যেই বক্তব্য, সাংবাদিক আজিম মিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধের অভিযোগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ ওরফে ‘তোতলা আজিজকে’ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক আজিম মিয়ার নাম ব্যঙ্গ করে পরিচালিত একটি ফেসবুক ফেক আইডিতে আব্দুল আজিজের বক্তব্য প্রকাশের পর এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।


সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাংবাদিক আজিম মিয়ার নাম ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে পরিচালিত ফেক আইডির কার্যক্রম নিয়ে সাইবার ক্রাইম সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তদন্ত চলমান থাকার কথা জানা রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আব্দুল আজিজ ওই আইডিতে বক্তব্য দেওয়ায় তার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।


ফেক আইডিতে বক্তব্য, কেন?


এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, আব্দুল আজিজ যদি নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন, তাহলে নিজের পরিচয়যুক্ত কিংবা প্রতিষ্ঠিত কোনো গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে বিতর্কিত ফেক আইডিতে বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন?


সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে সাংবাদিক আজিম মিয়াকে সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আব্দুল আজিজের নিজস্ব বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।


ফেক আইডির নেপথ্যে কারা—অভিযোগ


সাংবাদিক আজিম মিয়ার নাম ব্যঙ্গ করে পরিচালিত ফেসবুক ফেক আইডির সঙ্গে সাব্বির ও জয়নাল আবদীনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ভিডিও নিউজে প্রকাশিত হয়েছে।


তাদের দাবি, প্রকাশিত ভিডিও, বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্তে ফেক আইডিগুলোর পরিচালনা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়। তবে কোনো ফেসবুক আইডির প্রকৃত পরিচালনাকারী নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত তদন্তই চূড়ান্ত ভিত্তি হতে পারে।


কবরের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে বিরোধ


স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকনের’ বিরুদ্ধে কবরস্থানের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক আজিম মিয়া প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন করেন।


এরপর বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকনের’ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এর পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক আজিম মিয়াকে নিয়ে ফেক আইডিতে বিভিন্ন মন্তব্য এবং আব্দুল আজিজের বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।


আব্দুল আজিজকে নিয়ে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ


আব্দুল আজিজ সম্পর্কে জানতে এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ করেন।


তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, আব্দুল আজিজের পারিবারিক জীবনে অশান্তি রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। আবার কয়েকজনের দাবি, তার দৃশ্যমান নিয়মিত চাকরি বা ব্যবসা নেই।


স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘোরাফেরা তার নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেন।


কয়েকজন বাসিন্দার আরও অভিযোগ, কোনো পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি করে সেখান থেকেও সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।


বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ


স্থানীয় কয়েকজনের আরও অভিযোগ, আব্দুল আজিজ ওরফে ‘তোতলা আজিজ’ একসময় বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতিতে অর্থ নেওয়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ ও অর্থ ফেরত চাওয়ার ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে একাধিক সালিশ-দরবারও হয়েছে। এসব সালিশের মাধ্যমে কয়েকজনকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেন। তবে এখনো একাধিক ব্যক্তি আব্দুল আজিজের কাছে টাকা পাবেন বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে।


তবে এসব অর্থ লেনদেন, সালিশ এবং টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়গুলোর স্বাধীন নথিপত্র বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের নথি ও সালিশের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আজিজের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


‘মাদারবোর্ড’ নাম দেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আজিম মিয়া


আব্দুল আজিজের বক্তব্য এবং তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিক আজিম মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন।


আজিম মিয়ার ভাষ্য, “আজিজ একটা মাদারবোর্ড। তার কলঙ্কিত অধ্যায়ের কথা বলতে গেলে আর শেষ হবে না। এলাকায় তাকে মোনাফেক হিসেবে অনেকেই জানে।”


তিনি দাবি করেন, আব্দুল আজিজ বিভিন্ন সময়ে নিউজ করার কথা বলে তার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। আজিম মিয়ার অভিযোগ, “একসময় তার হাতে মোবাইল ছিল না। মোবাইল কেনার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। সেই মোবাইল দিয়েই পরে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি করেছে।”


আজিম মিয়া আরও বলেন, বর্তমানে তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় আব্দুল আজিজ ফেক আইডিতে মন্তব্য ও বক্তব্যের মাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা করছেন।


তার ভাষায়, “এজন্যই তার নাম আমি দিয়েছি মাদারবোর্ড।”


‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’ ধ্বংসের নীলনকশার অভিযোগ


সাংবাদিক আজিম মিয়া আরও অভিযোগ করেন, তার প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত করার পেছনে একটি পরিকল্পিত তৎপরতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আব্দুল আজিজ ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মহলের ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।


আজিম মিয়ার ভাষায়, “প্রতিবাদী কণ্ঠ সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ধ্বংসের পিছনে নীলনকশা আব্দুল আজিজ হাম্বাদীগেরও হাত রয়েছে।”


তবে সংগঠন ধ্বংসের পরিকল্পনা, অর্থ নেওয়া কিংবা ফেক আইডির মাধ্যমে সাংবাদিক আজিম মিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগগুলোর স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হলো।


প্রশ্নের মুখে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ও


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুল আজিজের বক্তব্য প্রকাশের পর তার সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টতার পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, কেউ প্রকৃত সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী হলে তার বক্তব্যের ক্ষেত্রে পরিচয় ও উৎস স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বিতর্কিত ফেক আইডিতে বক্তব্য দেওয়ার কারণে তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


তদন্তেই মিলতে পারে প্রকৃত চিত্র


সাংবাদিক আজিম মিয়ার নাম ব্যঙ্গ করে পরিচালিত ফেক আইডি, এর প্রকৃত পরিচালনাকারী এবং সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাইবার তদন্ত চলমান থাকলে প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।


একই সঙ্গে আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ নেওয়া, বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ গ্রহণ, ফেক আইডিতে বক্তব্য দেওয়া, বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঘিরে প্রচারণা এবং ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগগুলোরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।


সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, প্রকাশিত ভিডিও, অর্থ লেনদেনের তথ্য, প্রযুক্তিগত উপাত্ত ও তদন্তের ফলাফল সামনে এলে ‘তোতলা আজিজকে’ ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

CHANNEL H TV

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


তোতলা আজিজ’কে ঘিরে ফেক আইডি বিতর্ক: সাইবার তদন্তের মধ্যেই বক্তব্য, সাংবাদিক আজিম মিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ ওরফে ‘তোতলা আজিজকে’ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক আজিম মিয়ার নাম ব্যঙ্গ করে পরিচালিত একটি ফেসবুক ফেক আইডিতে আব্দুল আজিজের বক্তব্য প্রকাশের পর এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।


সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাংবাদিক আজিম মিয়ার নাম ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে পরিচালিত ফেক আইডির কার্যক্রম নিয়ে সাইবার ক্রাইম সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তদন্ত চলমান থাকার কথা জানা রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আব্দুল আজিজ ওই আইডিতে বক্তব্য দেওয়ায় তার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।


ফেক আইডিতে বক্তব্য, কেন?


এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, আব্দুল আজিজ যদি নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন, তাহলে নিজের পরিচয়যুক্ত কিংবা প্রতিষ্ঠিত কোনো গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে বিতর্কিত ফেক আইডিতে বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন?


সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে সাংবাদিক আজিম মিয়াকে সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আব্দুল আজিজের নিজস্ব বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।


ফেক আইডির নেপথ্যে কারা—অভিযোগ


সাংবাদিক আজিম মিয়ার নাম ব্যঙ্গ করে পরিচালিত ফেসবুক ফেক আইডির সঙ্গে সাব্বির ও জয়নাল আবদীনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ভিডিও নিউজে প্রকাশিত হয়েছে।


তাদের দাবি, প্রকাশিত ভিডিও, বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্তে ফেক আইডিগুলোর পরিচালনা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়। তবে কোনো ফেসবুক আইডির প্রকৃত পরিচালনাকারী নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত তদন্তই চূড়ান্ত ভিত্তি হতে পারে।


কবরের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে বিরোধ


স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকনের’ বিরুদ্ধে কবরস্থানের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক আজিম মিয়া প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন করেন।


এরপর বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকনের’ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এর পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক আজিম মিয়াকে নিয়ে ফেক আইডিতে বিভিন্ন মন্তব্য এবং আব্দুল আজিজের বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।


আব্দুল আজিজকে নিয়ে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ


আব্দুল আজিজ সম্পর্কে জানতে এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ করেন।


তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, আব্দুল আজিজের পারিবারিক জীবনে অশান্তি রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। আবার কয়েকজনের দাবি, তার দৃশ্যমান নিয়মিত চাকরি বা ব্যবসা নেই।


স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘোরাফেরা তার নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেন।


কয়েকজন বাসিন্দার আরও অভিযোগ, কোনো পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি করে সেখান থেকেও সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।


বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ


স্থানীয় কয়েকজনের আরও অভিযোগ, আব্দুল আজিজ ওরফে ‘তোতলা আজিজ’ একসময় বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতিতে অর্থ নেওয়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ ও অর্থ ফেরত চাওয়ার ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে একাধিক সালিশ-দরবারও হয়েছে। এসব সালিশের মাধ্যমে কয়েকজনকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেন। তবে এখনো একাধিক ব্যক্তি আব্দুল আজিজের কাছে টাকা পাবেন বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে।


তবে এসব অর্থ লেনদেন, সালিশ এবং টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়গুলোর স্বাধীন নথিপত্র বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের নথি ও সালিশের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আজিজের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


‘মাদারবোর্ড’ নাম দেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আজিম মিয়া


আব্দুল আজিজের বক্তব্য এবং তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিক আজিম মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন।


আজিম মিয়ার ভাষ্য, “আজিজ একটা মাদারবোর্ড। তার কলঙ্কিত অধ্যায়ের কথা বলতে গেলে আর শেষ হবে না। এলাকায় তাকে মোনাফেক হিসেবে অনেকেই জানে।”


তিনি দাবি করেন, আব্দুল আজিজ বিভিন্ন সময়ে নিউজ করার কথা বলে তার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। আজিম মিয়ার অভিযোগ, “একসময় তার হাতে মোবাইল ছিল না। মোবাইল কেনার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। সেই মোবাইল দিয়েই পরে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি করেছে।”


আজিম মিয়া আরও বলেন, বর্তমানে তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় আব্দুল আজিজ ফেক আইডিতে মন্তব্য ও বক্তব্যের মাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা করছেন।


তার ভাষায়, “এজন্যই তার নাম আমি দিয়েছি মাদারবোর্ড।”


‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’ ধ্বংসের নীলনকশার অভিযোগ


সাংবাদিক আজিম মিয়া আরও অভিযোগ করেন, তার প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত করার পেছনে একটি পরিকল্পিত তৎপরতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আব্দুল আজিজ ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মহলের ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।


আজিম মিয়ার ভাষায়, “প্রতিবাদী কণ্ঠ সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ধ্বংসের পিছনে নীলনকশা আব্দুল আজিজ হাম্বাদীগেরও হাত রয়েছে।”


তবে সংগঠন ধ্বংসের পরিকল্পনা, অর্থ নেওয়া কিংবা ফেক আইডির মাধ্যমে সাংবাদিক আজিম মিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগগুলোর স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হলো।


প্রশ্নের মুখে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ও


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুল আজিজের বক্তব্য প্রকাশের পর তার সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টতার পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, কেউ প্রকৃত সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী হলে তার বক্তব্যের ক্ষেত্রে পরিচয় ও উৎস স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বিতর্কিত ফেক আইডিতে বক্তব্য দেওয়ার কারণে তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


তদন্তেই মিলতে পারে প্রকৃত চিত্র


সাংবাদিক আজিম মিয়ার নাম ব্যঙ্গ করে পরিচালিত ফেক আইডি, এর প্রকৃত পরিচালনাকারী এবং সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাইবার তদন্ত চলমান থাকলে প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।


একই সঙ্গে আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ নেওয়া, বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ গ্রহণ, ফেক আইডিতে বক্তব্য দেওয়া, বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঘিরে প্রচারণা এবং ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগগুলোরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।


সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, প্রকাশিত ভিডিও, অর্থ লেনদেনের তথ্য, প্রযুক্তিগত উপাত্ত ও তদন্তের ফলাফল সামনে এলে ‘তোতলা আজিজকে’ ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


CHANNEL H TV

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রাজিবুল হক রনি
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক:
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
তোতলা আজিজ’কে ঘিরে ফেক আইডি বিতর্ক: সাইবার তদন্তের মধ্যেই বক্তব্য, সাংবাদিক আজিম মিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধের অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x