CHANNEL H TV

মৃত বাবার নাম ও সাংবাদিক আজিম মিঞাকে ঘিরে একাধিক ফেক আইডি, নেপথ্যে কারা—তদন্তের দাবি



মৃত বাবার নাম ও সাংবাদিক আজিম মিঞাকে ঘিরে একাধিক ফেক আইডি, নেপথ্যে কারা—তদন্তের দাবি

সাংবাদিক মোহাম্মদ আজিম মিঞা ও তার মৃত বাবা আবুল হাসেম মিয়ার নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফেক আইডি পরিচালনা এবং সাংবাদিক আজিম মিঞাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ‘আজিম মিয়ার মৃত বাবা আবুল হাশেম মিয়া’ নামে একটি ফেক আইডি ইতোমধ্যে রিমুভ হয়ে গেলেও, সাংবাদিক আজিম মিঞার নামকে ব্যঙ্গ করে খোলা আইডিসহ আরও একাধিক আইডি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যমান রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক আজিম মিঞা ও তার মৃত বাবা আবুল হাসেম মিয়ার নাম ব্যবহার করে খোলা একাধিক আইডি আব্দুল্লাহ আল সাব্বির ও জয়নাল আবদীন পরিচালনা করতেন। এ বিষয়ে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এসব আইডির বিষয়ে সাইবার অপরাধ ও প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।


এ ছাড়া ‘বিচারা দিন’, ‘আমাদের নোয়াখালী’সহ আরও কয়েকটি আইডি এখনো দৃশ্যমান রয়েছে বলে অভিযোগ। এসব আইডির কার্যক্রম প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইডিগুলোর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’-এর বিরুদ্ধে কবরের ওপর নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিক আজিম মিঞাকে নোংরাভাবে আক্রমণ ও হেয়প্রতিপন্ন করার হাতিয়ার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ফেক আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’ রয়েছেন বলেও এলাকার অসংখ্য মানুষের অভিযোগ।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কবরের ওপর ভবন নির্মাণ, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ, সুদ-ঘুষসহ বিভিন্ন সামাজিক অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক আজিম মিঞা ও তার পরিবার-পরিজনকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার ও আক্রমণ শুরু হয়।


অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকের প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’ এবং ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন। একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পরও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সামাজিক অবক্ষয় রোধ, মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন ওয়ার্ড প্রতিনিধির অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে কোনো জনপ্রতিনিধি যদি কোনো পক্ষের কথিত অপকর্মের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হন, তাহলে তা পুরো এলাকার জন্য উদ্বেগের বিষয়।


অভিযোগকারীরা আরও বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সামাজিক সংগঠন ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠন’কে দুর্বল বা ধ্বংস করার একটি নীলনকশার অংশ হিসেবেও এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে সাংবাদিক আজিম মিঞাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করাই সংশ্লিষ্টদের মূল লক্ষ্য ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।


সাংবাদিকদের সঙ্গে বিতর্কিত আচরণের অভিযোগ


ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশকে সাংবাদিক আজিম মিঞার বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে উশৃঙ্খল ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


এর আগেও সাংবাদিক আজিম মিঞার বিল্ডিংয়ের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটার পর সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে চাইলে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ভিডিও সংবাদেও বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।


অন্যদিকে, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিসূচক ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন—“সাংবাদিকরা অনেক বাল ফালায়, পারলেও আপনারা আমার জন্য কিছু করেন। আমি সাংবাদিকদের ভয় পাই না, সাংবাদিকরা খারাপ।” কবরের ওপর ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি এটিকে নিজের ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


চুরির ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন


সাংবাদিক আজিম মিঞার বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারের বিল্ডিং এবং তার বিল্ডিং পাশাপাশি। পলাশ মেম্বারের ঘর থেকে জানালা দিয়ে আজিম মিঞার ঘরের বড় একটি অংশ দেখা যায় এবং সামান্য শব্দও শোনা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।


চুরির ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর ওয়ার্ড প্রতিনিধির সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরবর্তী অনুসন্ধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে বলে সাংবাদিক আজিম মিঞার দাবি।


একই বাড়ির কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারের পরিবারের সদস্য এবং তার বড় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে ওই চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এমনকি তারা চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।


স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়ার ছেলে রাকিব চুরির একটি ঘটনা সরাসরি দেখার পর বিষয়টি নিয়ে পলাশ মেম্বারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরবর্তীতে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।


সাংবাদিক আজিম মিঞার দাবি, তার ঘরে চুরির ঘটনা একদিনে ঘটেনি; বরং একাধিকবার ধীরে ধীরে চুরি করা হয়েছে। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।


চুরির ঘটনাটি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও তদন্ত করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে এখনো দৃশ্যমান ও জোরালো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।


দীর্ঘদিনের ওয়ার্ড প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন


ঘর চুরির অভিযোগের পাশাপাশি ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশের দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের ওয়ার্ড প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।


তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকার পরও এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ মেম্বারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রভাবশালী ও উশৃঙ্খল ব্যক্তিরা মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থেকে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন।


তাদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্রয় দেওয়াই যেন ওয়ার্ড প্রতিনিধির অন্যতম ভূমিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


তদন্তের দাবি


স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিযোগকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ফেক আইডিগুলোর পেছনে কারা রয়েছেন, কার নির্দেশনায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না—তা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


একই সঙ্গে সাংবাদিক আজিম মিঞা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, পরিচয় ব্যবহার করে ফেক আইডি পরিচালনা এবং চুরির অভিযোগসহ সব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’, আব্দুল্লাহ আল সাব্বির ও জয়নাল আবদীনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

CHANNEL H TV

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


মৃত বাবার নাম ও সাংবাদিক আজিম মিঞাকে ঘিরে একাধিক ফেক আইডি, নেপথ্যে কারা—তদন্তের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাংবাদিক মোহাম্মদ আজিম মিঞা ও তার মৃত বাবা আবুল হাসেম মিয়ার নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফেক আইডি পরিচালনা এবং সাংবাদিক আজিম মিঞাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ‘আজিম মিয়ার মৃত বাবা আবুল হাশেম মিয়া’ নামে একটি ফেক আইডি ইতোমধ্যে রিমুভ হয়ে গেলেও, সাংবাদিক আজিম মিঞার নামকে ব্যঙ্গ করে খোলা আইডিসহ আরও একাধিক আইডি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যমান রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক আজিম মিঞা ও তার মৃত বাবা আবুল হাসেম মিয়ার নাম ব্যবহার করে খোলা একাধিক আইডি আব্দুল্লাহ আল সাব্বির ও জয়নাল আবদীন পরিচালনা করতেন। এ বিষয়ে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এসব আইডির বিষয়ে সাইবার অপরাধ ও প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।


এ ছাড়া ‘বিচারা দিন’, ‘আমাদের নোয়াখালী’সহ আরও কয়েকটি আইডি এখনো দৃশ্যমান রয়েছে বলে অভিযোগ। এসব আইডির কার্যক্রম প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইডিগুলোর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’-এর বিরুদ্ধে কবরের ওপর নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিক আজিম মিঞাকে নোংরাভাবে আক্রমণ ও হেয়প্রতিপন্ন করার হাতিয়ার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ফেক আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’ রয়েছেন বলেও এলাকার অসংখ্য মানুষের অভিযোগ।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কবরের ওপর ভবন নির্মাণ, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ, সুদ-ঘুষসহ বিভিন্ন সামাজিক অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক আজিম মিঞা ও তার পরিবার-পরিজনকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার ও আক্রমণ শুরু হয়।


অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকের প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’ এবং ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন। একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পরও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সামাজিক অবক্ষয় রোধ, মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন ওয়ার্ড প্রতিনিধির অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে কোনো জনপ্রতিনিধি যদি কোনো পক্ষের কথিত অপকর্মের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হন, তাহলে তা পুরো এলাকার জন্য উদ্বেগের বিষয়।


অভিযোগকারীরা আরও বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সামাজিক সংগঠন ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠন’কে দুর্বল বা ধ্বংস করার একটি নীলনকশার অংশ হিসেবেও এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে সাংবাদিক আজিম মিঞাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করাই সংশ্লিষ্টদের মূল লক্ষ্য ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।


সাংবাদিকদের সঙ্গে বিতর্কিত আচরণের অভিযোগ


ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশকে সাংবাদিক আজিম মিঞার বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে উশৃঙ্খল ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


এর আগেও সাংবাদিক আজিম মিঞার বিল্ডিংয়ের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটার পর সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে চাইলে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ভিডিও সংবাদেও বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।


অন্যদিকে, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিসূচক ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন—“সাংবাদিকরা অনেক বাল ফালায়, পারলেও আপনারা আমার জন্য কিছু করেন। আমি সাংবাদিকদের ভয় পাই না, সাংবাদিকরা খারাপ।” কবরের ওপর ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি এটিকে নিজের ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


চুরির ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন


সাংবাদিক আজিম মিঞার বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারের বিল্ডিং এবং তার বিল্ডিং পাশাপাশি। পলাশ মেম্বারের ঘর থেকে জানালা দিয়ে আজিম মিঞার ঘরের বড় একটি অংশ দেখা যায় এবং সামান্য শব্দও শোনা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।


চুরির ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর ওয়ার্ড প্রতিনিধির সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরবর্তী অনুসন্ধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে বলে সাংবাদিক আজিম মিঞার দাবি।


একই বাড়ির কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারের পরিবারের সদস্য এবং তার বড় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে ওই চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এমনকি তারা চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।


স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়ার ছেলে রাকিব চুরির একটি ঘটনা সরাসরি দেখার পর বিষয়টি নিয়ে পলাশ মেম্বারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরবর্তীতে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।


সাংবাদিক আজিম মিঞার দাবি, তার ঘরে চুরির ঘটনা একদিনে ঘটেনি; বরং একাধিকবার ধীরে ধীরে চুরি করা হয়েছে। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।


চুরির ঘটনাটি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও তদন্ত করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে এখনো দৃশ্যমান ও জোরালো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।


দীর্ঘদিনের ওয়ার্ড প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন


ঘর চুরির অভিযোগের পাশাপাশি ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশের দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের ওয়ার্ড প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।


তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকার পরও এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ মেম্বারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রভাবশালী ও উশৃঙ্খল ব্যক্তিরা মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থেকে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন।


তাদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্রয় দেওয়াই যেন ওয়ার্ড প্রতিনিধির অন্যতম ভূমিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


তদন্তের দাবি


স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিযোগকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ফেক আইডিগুলোর পেছনে কারা রয়েছেন, কার নির্দেশনায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না—তা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


একই সঙ্গে সাংবাদিক আজিম মিঞা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, পরিচয় ব্যবহার করে ফেক আইডি পরিচালনা এবং চুরির অভিযোগসহ সব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’, আব্দুল্লাহ আল সাব্বির ও জয়নাল আবদীনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।


CHANNEL H TV

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রাজিবুল হক রনি
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক:
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মৃত বাবার নাম ও সাংবাদিক আজিম মিঞাকে ঘিরে একাধিক ফেক আইডি, নেপথ্যে কারা—তদন্তের দাবি
0:00 / 0:00
1x