নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের জামে মসজিদসংলগ্ন এমদাদুল উলুম নূরানী হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসাকে ঘিরে প্রকাশিত প্রথম প্রতিবেদনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আনোয়ার চৌকিদার। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার, রাজনৈতিক-সামাজিক বিষয় নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ও মন্তব্য এবং তাঁর শিক্ষাগত ও ধর্মীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। এসব কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব পোস্টের বক্তব্য, প্রকাশের সময় এবং প্রেক্ষাপট যাচাই করে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যক্তিগত আইডিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি, প্রশ্ন করতেই ফোন কেটে দেওয়ার অভিযোগ
প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাংবাদিক আনোয়ার চৌকিদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের কারণ এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? এ ক্ষেত্রে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তবে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণ সম্পর্কে আনোয়ার চৌকিদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য ছাড়া তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
কখনো সুশীল, কখনো মাওলানা-মুফতি-মুহাদ্দিস পরিচয়—যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, আনোয়ার চৌকিদার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্কিত পোস্ট ও মন্তব্য করেন। কখনো নিজেকে সুশীল ব্যক্তি, আবার কখনো মাওলানা, মুফতি ও মুহাদ্দিস পরিচয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।
তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয় ও মর্যাদার দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আচরণের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সমালোচকদের কেউ কেউ তাঁকে ‘ফেসবুক হুজুর’ বলেও কটাক্ষ করেন।
সংরক্ষিত স্ক্রিনশট ঘিরে বিতর্ক, মাদ্রাসার সুনাম নিয়ে উদ্বেগ
আনোয়ার চৌকিদারের ব্যক্তিগত ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান, সামাজিক বিতর্ক কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক মন্তব্যের সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচিতি যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনায় একক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের জন্য সংগৃহীত অর্থের হিসাব প্রকাশ এবং পরিচালনা কমিটির ভূমিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া মাদ্রাসার জন্য সংগৃহীত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নিরীক্ষিত হিসাব বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা আর্থিক নথি এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্র, পরিচালনা কমিটির বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
চৌকিদার বাড়ি নিয়ে আলোচনা, ব্যক্তির অভিযোগে পরিবারকে জড়ানোর প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার চৌকিদারের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ি। তাঁকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নিয়ে এলাকার কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীদের একাংশ।
ওই বাড়ির মানুষের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও তারা নিজেদেরকে ধার্মিক মনে করেন বাস্তবে অধিকাংশ ব্যক্তি মূর্খ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি, আনোয়ার চৌকিদারের শিক্ষাগত ও ধর্মীয় যোগ্যতা, ব্যক্তিগত ফেসবুক কর্মকাণ্ড এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের জামে মসজিদসংলগ্ন এমদাদুল উলুম নূরানী হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসাকে ঘিরে প্রকাশিত প্রথম প্রতিবেদনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আনোয়ার চৌকিদার। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার, রাজনৈতিক-সামাজিক বিষয় নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ও মন্তব্য এবং তাঁর শিক্ষাগত ও ধর্মীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। এসব কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব পোস্টের বক্তব্য, প্রকাশের সময় এবং প্রেক্ষাপট যাচাই করে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যক্তিগত আইডিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি, প্রশ্ন করতেই ফোন কেটে দেওয়ার অভিযোগ
প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাংবাদিক আনোয়ার চৌকিদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের কারণ এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? এ ক্ষেত্রে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তবে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণ সম্পর্কে আনোয়ার চৌকিদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য ছাড়া তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
কখনো সুশীল, কখনো মাওলানা-মুফতি-মুহাদ্দিস পরিচয়—যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, আনোয়ার চৌকিদার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্কিত পোস্ট ও মন্তব্য করেন। কখনো নিজেকে সুশীল ব্যক্তি, আবার কখনো মাওলানা, মুফতি ও মুহাদ্দিস পরিচয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।
তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয় ও মর্যাদার দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আচরণের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সমালোচকদের কেউ কেউ তাঁকে ‘ফেসবুক হুজুর’ বলেও কটাক্ষ করেন।
সংরক্ষিত স্ক্রিনশট ঘিরে বিতর্ক, মাদ্রাসার সুনাম নিয়ে উদ্বেগ
আনোয়ার চৌকিদারের ব্যক্তিগত ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান, সামাজিক বিতর্ক কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক মন্তব্যের সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচিতি যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনায় একক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের জন্য সংগৃহীত অর্থের হিসাব প্রকাশ এবং পরিচালনা কমিটির ভূমিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া মাদ্রাসার জন্য সংগৃহীত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নিরীক্ষিত হিসাব বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা আর্থিক নথি এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্র, পরিচালনা কমিটির বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
চৌকিদার বাড়ি নিয়ে আলোচনা, ব্যক্তির অভিযোগে পরিবারকে জড়ানোর প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার চৌকিদারের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ি। তাঁকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নিয়ে এলাকার কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীদের একাংশ।
ওই বাড়ির মানুষের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও তারা নিজেদেরকে ধার্মিক মনে করেন বাস্তবে অধিকাংশ ব্যক্তি মূর্খ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি, আনোয়ার চৌকিদারের শিক্ষাগত ও ধর্মীয় যোগ্যতা, ব্যক্তিগত ফেসবুক কর্মকাণ্ড এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন