CHANNEL H TV

মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত আইডিতে, আলোচনায় আনোয়ার চৌকিদার



মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত আইডিতে, আলোচনায় আনোয়ার চৌকিদার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির মোস্তফা চৌকিদারের ছেলে আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের জামে মসজিদ সংলগ্ন ইমদাদুল উলুম নূরানী হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার সাইনবোর্ড, শিক্ষার্থীদের ছবি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সমাজের একাধিক ব্যক্তি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ধর্মীয় পরিচয় উপস্থাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তাঁকে ধর্মীয় কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার কারণে তাকে ‘কাঠমোল্লা’, ‘ভণ্ড’ ও ধর্মের লেবাজে থাকা ‘লেবাসধারী ধর্মব্যবসায়ী’ বলেও সমালোচনা করেছেন। 


অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত পরিচিতি ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আনোয়ার চৌকিদার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁদের ভাষ্য, এতে মাদ্রাসাটির ভাবমূর্তি বিতর্কের মুখে পড়ছে।


একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও কেন তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের অনেকে। তাঁদের মতে, এর পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে। 


মাদ্রাসার পরিচয় ব্যক্তিগত প্রচারে ব্যবহারের অভিযোগ


স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহার করে আনোয়ার চৌকিদার নিজেকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত পরিচিতি বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিসংগত।


একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণত মানুষের দান-অনুদানের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রচার, অনুদানের হিসাব প্রকাশ এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য মাদ্রাসার নিজস্ব ফেসবুক পেজ বা অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যক্তিগত আইডিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।


অভিযোগকারীদের দাবি, আনোয়ার চৌকিদার ব্যক্তিগতভাবে মাদ্রাসায় কী পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন, তা স্পষ্ট নয়। বরং মানুষের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে বলে তাঁদের দাবি। এসব অভিযোগ সামনে আসার পরও কেন তিনি ব্যক্তিগত আইডিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার অব্যাহত রেখেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।


স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, বিতর্কের অবসান ঘটাতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থের হিসাব স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।


ফেক আইডি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের অভিযোগ


এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে ফেক আইডি পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ফেক আইডি ব্যবহারকারী কিছু ব্যক্তি এবং তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক, কবরের উপরে বিল্ডিং, সুদ, ঘুষ, চুরি, কিশোর গ্যাং ও বলাৎকারের মতো গুরুতর অপরাধে সহযোগিতা বা সমর্থনের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।




অভিযোগকারীদের মতে, বিভিন্ন বিতর্কের সঙ্গে একজন ব্যক্তির নাম জড়িয়ে পড়লে তাঁর মাধ্যমে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রচার করা প্রতিষ্ঠানটির সুনামের জন্য প্রশ্ন তৈরি । এ পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি পরিষ্কার করা।


মাদ্রাসার অর্থ ও ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়ে প্রশ্ন


আনোয়ার চৌকিদারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত নামে সম্পদ অর্জন এবং নিজস্ব ব্যবসায়িক কাজে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের মতে, মানুষের দান-অনুদানে পরিচালিত একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থের হিসাব ও ব্যয়ের খাত সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।




প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা


সাম্প্রতিক সময়ে আনোয়ার চৌকিদারের কর্মকাণ্ড নিয়ে কয়েকটি প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।


তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টগুলো দেখে কেউ কেউ তাঁর আচরণ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। আবার কয়েকজনের ধারণা, তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসার পর মানুষের আস্থায় প্রভাব পড়েছে এবং মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ।



সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, নাকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার?


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আনোয়ার চৌকিদার মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নিজের পরিচিতি বাড়ানো এবং পরিবারের সুনাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে তাঁকে মাদ্রাসার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রচার চালানোর অভিযোগে সমালোচনার মুখে রয়েছে ।


স্থানীয়দের একাংশের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম, সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। এসব বিষয় ব্যক্তিগত প্রচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত। এ কারণে মাদ্রাসার পরিচালনা, অর্থের হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


যাকাত-ফিতরা ও সামাজিক বিরোধের অভিযোগ


অভিযোগ রয়েছে, যাকাত-ফিতরা যথাযথভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া না-হলে ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত লাগার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে আনোয়ার চৌকিদার কিছু মানুষের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁদের সমালোচনায় জড়িয়ে পড়েন। আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেন।


অভিযোগকারীদের মতে, একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয়কে ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা আত্মপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

আবার কেউ কেউ বলেছে সে এমন ভাববঙ্গী দেখায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদ্রাসাটি যেন তার বাপ-দাদার সম্পদ। বাস্তবে তাদের পরিচয় নিম্ন জাতের এবং নিম্ন শ্রেণীর চৌকিদার। 




আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের অর্থের ব্যবহার, ব্যক্তিগত নামে সম্পদ অর্জন, ব্যবসায়িক কাজে মাদ্রাসার অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধ তৈরির বিষয়।

ফেক আইডি ব্যবহার, এবং ফেক আইডি ব্যবহারকারীদের সহযোগী। 

আর্থিক হিসাব। 


একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমতি ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার কর্তব্য।

আপনার মতামত লিখুন

CHANNEL H TV

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত আইডিতে, আলোচনায় আনোয়ার চৌকিদার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির মোস্তফা চৌকিদারের ছেলে আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের জামে মসজিদ সংলগ্ন ইমদাদুল উলুম নূরানী হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার সাইনবোর্ড, শিক্ষার্থীদের ছবি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সমাজের একাধিক ব্যক্তি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ধর্মীয় পরিচয় উপস্থাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তাঁকে ধর্মীয় কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার কারণে তাকে ‘কাঠমোল্লা’, ‘ভণ্ড’ ও ধর্মের লেবাজে থাকা ‘লেবাসধারী ধর্মব্যবসায়ী’ বলেও সমালোচনা করেছেন। 


অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত পরিচিতি ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আনোয়ার চৌকিদার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁদের ভাষ্য, এতে মাদ্রাসাটির ভাবমূর্তি বিতর্কের মুখে পড়ছে।


একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও কেন তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের অনেকে। তাঁদের মতে, এর পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে। 


মাদ্রাসার পরিচয় ব্যক্তিগত প্রচারে ব্যবহারের অভিযোগ


স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহার করে আনোয়ার চৌকিদার নিজেকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত পরিচিতি বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিসংগত।


একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণত মানুষের দান-অনুদানের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রচার, অনুদানের হিসাব প্রকাশ এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য মাদ্রাসার নিজস্ব ফেসবুক পেজ বা অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যক্তিগত আইডিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।


অভিযোগকারীদের দাবি, আনোয়ার চৌকিদার ব্যক্তিগতভাবে মাদ্রাসায় কী পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন, তা স্পষ্ট নয়। বরং মানুষের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে বলে তাঁদের দাবি। এসব অভিযোগ সামনে আসার পরও কেন তিনি ব্যক্তিগত আইডিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার অব্যাহত রেখেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।


স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, বিতর্কের অবসান ঘটাতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থের হিসাব স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।


ফেক আইডি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের অভিযোগ


এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে ফেক আইডি পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ফেক আইডি ব্যবহারকারী কিছু ব্যক্তি এবং তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক, কবরের উপরে বিল্ডিং, সুদ, ঘুষ, চুরি, কিশোর গ্যাং ও বলাৎকারের মতো গুরুতর অপরাধে সহযোগিতা বা সমর্থনের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।




অভিযোগকারীদের মতে, বিভিন্ন বিতর্কের সঙ্গে একজন ব্যক্তির নাম জড়িয়ে পড়লে তাঁর মাধ্যমে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রচার করা প্রতিষ্ঠানটির সুনামের জন্য প্রশ্ন তৈরি । এ পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি পরিষ্কার করা।


মাদ্রাসার অর্থ ও ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়ে প্রশ্ন


আনোয়ার চৌকিদারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত নামে সম্পদ অর্জন এবং নিজস্ব ব্যবসায়িক কাজে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের মতে, মানুষের দান-অনুদানে পরিচালিত একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থের হিসাব ও ব্যয়ের খাত সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।




প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা


সাম্প্রতিক সময়ে আনোয়ার চৌকিদারের কর্মকাণ্ড নিয়ে কয়েকটি প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।


তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টগুলো দেখে কেউ কেউ তাঁর আচরণ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। আবার কয়েকজনের ধারণা, তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসার পর মানুষের আস্থায় প্রভাব পড়েছে এবং মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ।



সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, নাকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার?


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আনোয়ার চৌকিদার মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নিজের পরিচিতি বাড়ানো এবং পরিবারের সুনাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে তাঁকে মাদ্রাসার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রচার চালানোর অভিযোগে সমালোচনার মুখে রয়েছে ।


স্থানীয়দের একাংশের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম, সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। এসব বিষয় ব্যক্তিগত প্রচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত। এ কারণে মাদ্রাসার পরিচালনা, অর্থের হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


যাকাত-ফিতরা ও সামাজিক বিরোধের অভিযোগ


অভিযোগ রয়েছে, যাকাত-ফিতরা যথাযথভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া না-হলে ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত লাগার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে আনোয়ার চৌকিদার কিছু মানুষের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁদের সমালোচনায় জড়িয়ে পড়েন। আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেন।


অভিযোগকারীদের মতে, একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয়কে ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা আত্মপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

আবার কেউ কেউ বলেছে সে এমন ভাববঙ্গী দেখায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদ্রাসাটি যেন তার বাপ-দাদার সম্পদ। বাস্তবে তাদের পরিচয় নিম্ন জাতের এবং নিম্ন শ্রেণীর চৌকিদার। 




আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের অর্থের ব্যবহার, ব্যক্তিগত নামে সম্পদ অর্জন, ব্যবসায়িক কাজে মাদ্রাসার অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধ তৈরির বিষয়।

ফেক আইডি ব্যবহার, এবং ফেক আইডি ব্যবহারকারীদের সহযোগী। 

আর্থিক হিসাব। 


একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমতি ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার কর্তব্য।


CHANNEL H TV

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রাজিবুল হক রনি
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক:
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত আইডিতে, আলোচনায় আনোয়ার চৌকিদার
0:00 / 0:00
1x