CHANNEL H TV

প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে হুমকির অভিযোগ, আনোয়ার চৌকিদারের পাল্টা বিতর্কিত পোস্ট



প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে হুমকির অভিযোগ, আনোয়ার চৌকিদারের পাল্টা বিতর্কিত পোস্ট

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা চৌকিদারের ছেলে আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক গণমাধ্যমকর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে যুক্ত করে হুমকি-ধমকি ও গালমন্দের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই গণমাধ্যমকর্মীকে উদ্দেশ করে অশালীন ও আক্রমণাত্মক ভাষায় পাল্টা পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


সম্প্রতি নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত এমদাদুল উলুম কওমি হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহার, মাদ্রাসার পরিচয় ব্যক্তিগত প্রচারণায় উপস্থাপন এবং এতে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর আনোয়ার চৌকিদারের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।


চার ব্যক্তিকে ঘিরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কল, ফেক আইডি ব্যবহারের অভিযোগ


এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুল্লাহ আল সাব্বির, জংলি ওরফে মৃগী জয়নাল, কবরের ওপর ভবন নির্মাণকারী হিসেবে আলোচিত জামাল উদ্দিন ওরফে সুদি খোকনের ভাই গাঁজা ইকবাল এবং মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ব্যক্তিগত প্রচারণায় ব্যবহারকারী হিসেবে অভিযুক্ত আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলের ঘটনা সামনে এসেছে।


সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ, এসব ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। তাঁর দাবি, ওই কলের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালমন্দ করা এবং সংবাদ প্রকাশের কারণে চাপ সৃষ্টি করা।


এদিকে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জংলি ওরফে মৃগী জয়নাল, আব্দুল্লাহ আল সাব্বির ও আনোয়ার চৌকিদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। চার ব্যক্তিকে ঘিরে ফেক আইডি ব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, যাঁদের বিরুদ্ধে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে, তারা কীভাবে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকেন? একটি মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, পরিচয় ও দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।


তোতলা আজিজের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক


এ বিষয়ে বিতর্কিত চাঁদাবাজ তোতলা আজিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মী ভয়ে কলটি ধরেননি। কল ধরলে তাঁকে ভালোভাবেই কথা শোনানো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের কারণেই ওই গণমাধ্যমকর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।


পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকর্মী আনোয়ার চৌকিদারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গ্রুপ কলে যুক্ত করার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানতে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও আনোয়ার চৌকিদার কল রিসিভ করেননি বলে দাবি করেছেন ওই গণমাধ্যমকর্মী।পরবর্তীতে তাকে কিছু প্রশ্ন রাখেন গণমাধ্যম কর্মী মৃত ব্যক্তির নামে ফেসবুক একাউন্ট এবং গণমাধ্যম কর্মীর মায়ের ছবি দিয়ে এ আই ভিডিও প্রকাশ শহর নানান প্রশ্ন রাখেন।

এবং তাকে জবাবদিহিতের আওতায় আনতে চেষ্টা করেন।


প্রশ্নের জবাব না দিয়ে হোয়াটসআপ ব্লক করে দিয়ে। ফেসবুকে আক্রমণাত্মক পোস্টের অভিযোগ


এ ছাড়া আনোয়ার চৌকিদারের কর্মকাণ্ড এবং মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহারের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপের কমেন্টে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী। তবে এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে আনোয়ার চৌকিদার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ওই গণমাধ্যমকর্মীকে উদ্দেশ করে একাধিক আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “যতই চাই এই বেয়াদব অমানুষ।”


একই পোস্টে আরও লেখেন, “তুমি কোন ছাতার মাতা। কোন ছাতা ফালাও তুমি আমিও দেখবো, এরপর তোমায় আমি আমারটা বোঝাবো।”


পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “তোমার এ সব অন্যায়ের শেষ পরিণতি, কি হয় তুমি দেখো।”এবং তার কিছু হলে ওই গণমাধ্যম কর্মী এটার জন্য দায়ী বল উল্টো অভিযোগ করেন। 


সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ ও মাদ্রাসার বিষয়ে প্রশ্ন তোলার জেরেই তাঁকে উদ্দেশ করে এসব আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের একটি অংশ এসব বক্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকিমূলক ভাষা হিসেবে দেখছেন।


তাঁদের মতে, কোনো সংবাদ প্রতিবেদনে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদ, বক্তব্য কিংবা আইনি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা কিংবা হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।


আনোয়ারের পোস্টের মন্তব্যে গাঁজা রাজুর অশালীন বক্তব্যের অভিযোগ


অন্যদিকে, আনোয়ার চৌকিদারের ওই ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পেটকাটা পোটলা সোপপার ছেলে গাঁজা রাজু বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় মন্তব্য ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীর দাবি, এর আগেও ২ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁজা সেবনের অভিযোগসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় রাজু তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজু মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীর বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।


আনোয়ার চৌকিদারের পোস্টের মন্তব্যে রাজুর এমন বক্তব্য ও অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী।


মাদ্রাসার সাইনবোর্ড, শিক্ষার্থীদের ছবি ও দান-অনুদানের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন


স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহার করে আনোয়ার চৌকিদার নিজের পরিচিতি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া মাদ্রাসার অর্থ ব্যবস্থাপনা, দান-অনুদানের অর্থের ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যক্তিগত প্রচারণায় ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত অর্থায়ন ছাড়াই মানুষের দান-অনুদানের অর্থ ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। মাদ্রাসার নামে সংগৃহীত অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কার সিদ্ধান্তে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত প্রচারণায় ব্যবহারের অধিকার কার? মাদ্রাসার দান-অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং এর জবাবদিহি কার কাছে? প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় কারা সম্পৃক্ত এবং তাঁদের দায়িত্ব ও জবাবদিহির কাঠামো কী?


একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা কীভাবে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।


সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে উদ্বেগ


সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবাদ প্রকাশের পর গণমাধ্যমকর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে যুক্ত করার চেষ্টা, কলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক পোস্ট দেওয়ার ঘটনাগুলো আলাদাভাবে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


সাংবাদিকদের অভিমত, সংবাদ প্রকাশের কারণে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ, বক্তব্য কিংবা আইনি প্রতিকারের পথ বেছে নিতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগতভাবে অপমান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করার চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।


এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলের উদ্দেশ্য, ফেক আইডি ব্যবহারের অভিযোগ এবং মাদ্রাসার আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

CHANNEL H TV

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে হুমকির অভিযোগ, আনোয়ার চৌকিদারের পাল্টা বিতর্কিত পোস্ট

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা চৌকিদারের ছেলে আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক গণমাধ্যমকর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে যুক্ত করে হুমকি-ধমকি ও গালমন্দের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই গণমাধ্যমকর্মীকে উদ্দেশ করে অশালীন ও আক্রমণাত্মক ভাষায় পাল্টা পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


সম্প্রতি নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত এমদাদুল উলুম কওমি হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহার, মাদ্রাসার পরিচয় ব্যক্তিগত প্রচারণায় উপস্থাপন এবং এতে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর আনোয়ার চৌকিদারের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।


চার ব্যক্তিকে ঘিরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কল, ফেক আইডি ব্যবহারের অভিযোগ


এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুল্লাহ আল সাব্বির, জংলি ওরফে মৃগী জয়নাল, কবরের ওপর ভবন নির্মাণকারী হিসেবে আলোচিত জামাল উদ্দিন ওরফে সুদি খোকনের ভাই গাঁজা ইকবাল এবং মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ব্যক্তিগত প্রচারণায় ব্যবহারকারী হিসেবে অভিযুক্ত আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলের ঘটনা সামনে এসেছে।


সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ, এসব ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। তাঁর দাবি, ওই কলের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালমন্দ করা এবং সংবাদ প্রকাশের কারণে চাপ সৃষ্টি করা।


এদিকে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জংলি ওরফে মৃগী জয়নাল, আব্দুল্লাহ আল সাব্বির ও আনোয়ার চৌকিদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। চার ব্যক্তিকে ঘিরে ফেক আইডি ব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, যাঁদের বিরুদ্ধে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে, তারা কীভাবে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকেন? একটি মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, পরিচয় ও দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।


তোতলা আজিজের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক


এ বিষয়ে বিতর্কিত চাঁদাবাজ তোতলা আজিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মী ভয়ে কলটি ধরেননি। কল ধরলে তাঁকে ভালোভাবেই কথা শোনানো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের কারণেই ওই গণমাধ্যমকর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।


পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকর্মী আনোয়ার চৌকিদারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গ্রুপ কলে যুক্ত করার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানতে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও আনোয়ার চৌকিদার কল রিসিভ করেননি বলে দাবি করেছেন ওই গণমাধ্যমকর্মী।পরবর্তীতে তাকে কিছু প্রশ্ন রাখেন গণমাধ্যম কর্মী মৃত ব্যক্তির নামে ফেসবুক একাউন্ট এবং গণমাধ্যম কর্মীর মায়ের ছবি দিয়ে এ আই ভিডিও প্রকাশ শহর নানান প্রশ্ন রাখেন।

এবং তাকে জবাবদিহিতের আওতায় আনতে চেষ্টা করেন।


প্রশ্নের জবাব না দিয়ে হোয়াটসআপ ব্লক করে দিয়ে। ফেসবুকে আক্রমণাত্মক পোস্টের অভিযোগ


এ ছাড়া আনোয়ার চৌকিদারের কর্মকাণ্ড এবং মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহারের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপের কমেন্টে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী। তবে এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে আনোয়ার চৌকিদার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ওই গণমাধ্যমকর্মীকে উদ্দেশ করে একাধিক আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “যতই চাই এই বেয়াদব অমানুষ।”


একই পোস্টে আরও লেখেন, “তুমি কোন ছাতার মাতা। কোন ছাতা ফালাও তুমি আমিও দেখবো, এরপর তোমায় আমি আমারটা বোঝাবো।”


পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “তোমার এ সব অন্যায়ের শেষ পরিণতি, কি হয় তুমি দেখো।”এবং তার কিছু হলে ওই গণমাধ্যম কর্মী এটার জন্য দায়ী বল উল্টো অভিযোগ করেন। 


সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ ও মাদ্রাসার বিষয়ে প্রশ্ন তোলার জেরেই তাঁকে উদ্দেশ করে এসব আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের একটি অংশ এসব বক্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকিমূলক ভাষা হিসেবে দেখছেন।


তাঁদের মতে, কোনো সংবাদ প্রতিবেদনে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদ, বক্তব্য কিংবা আইনি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা কিংবা হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।


আনোয়ারের পোস্টের মন্তব্যে গাঁজা রাজুর অশালীন বক্তব্যের অভিযোগ


অন্যদিকে, আনোয়ার চৌকিদারের ওই ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পেটকাটা পোটলা সোপপার ছেলে গাঁজা রাজু বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় মন্তব্য ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীর দাবি, এর আগেও ২ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁজা সেবনের অভিযোগসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় রাজু তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজু মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীর বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।


আনোয়ার চৌকিদারের পোস্টের মন্তব্যে রাজুর এমন বক্তব্য ও অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী।


মাদ্রাসার সাইনবোর্ড, শিক্ষার্থীদের ছবি ও দান-অনুদানের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন


স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যবহার করে আনোয়ার চৌকিদার নিজের পরিচিতি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া মাদ্রাসার অর্থ ব্যবস্থাপনা, দান-অনুদানের অর্থের ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যক্তিগত প্রচারণায় ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত অর্থায়ন ছাড়াই মানুষের দান-অনুদানের অর্থ ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। মাদ্রাসার নামে সংগৃহীত অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কার সিদ্ধান্তে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যক্তিগত প্রচারণায় ব্যবহারের অধিকার কার? মাদ্রাসার দান-অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং এর জবাবদিহি কার কাছে? প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় কারা সম্পৃক্ত এবং তাঁদের দায়িত্ব ও জবাবদিহির কাঠামো কী?


একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা কীভাবে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।


সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে উদ্বেগ


সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবাদ প্রকাশের পর গণমাধ্যমকর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে যুক্ত করার চেষ্টা, কলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক পোস্ট দেওয়ার ঘটনাগুলো আলাদাভাবে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


সাংবাদিকদের অভিমত, সংবাদ প্রকাশের কারণে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ, বক্তব্য কিংবা আইনি প্রতিকারের পথ বেছে নিতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগতভাবে অপমান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করার চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।


এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলের উদ্দেশ্য, ফেক আইডি ব্যবহারের অভিযোগ এবং মাদ্রাসার আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও উঠেছে।


CHANNEL H TV

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রাজিবুল হক রনি
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক:
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে হুমকির অভিযোগ, আনোয়ার চৌকিদারের পাল্টা বিতর্কিত পোস্ট
0:00 / 0:00
1x