CHANNEL H TV

চ্যানেল নাইন-এর প্রতিনিধি পরিচয়ে ‘তোতলা আজিজের’ বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ নোয়াখালীর সাংবাদিকরা



চ্যানেল নাইন-এর প্রতিনিধি পরিচয়ে ‘তোতলা আজিজের’ বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ নোয়াখালীর সাংবাদিকরা

চ্যানেল নাইন-এর প্রতিনিধি পরিচয় ব্যবহার করে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং প্রতারণাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে ‘তোতলা আজিজ’-এর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সাংবাদিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও আলোচনা-সমালোচনা।


একাধিক গণমাধ্যমকর্মীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, আর্থিক সুবিধা আদায় এবং এক সাংবাদিকের বক্তব্য অন্য সাংবাদিকের কাছে পৌঁছে দিয়ে পারস্পরিক বিরোধ তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের খোকনের বক্তব্য


এ বিষয়ে স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের খোকন অভিযোগ করে বলেন, ‘তোতলা আজিজ’ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও স্থান উল্লেখ করে প্রয়োজনে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। এ জন্য নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের সুযোগ রাখার কথাও উল্লেখ করেন।


সাংবাদিক সুমন ভূঁইয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ


সাংবাদিক সুমন ভূঁইয়া আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, তার দাবি অনুযায়ী, ‘তোতলা আজিজ’ প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি করেন। চ্যানেল নাইন-এর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে এমন কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।


সুমন ভূঁইয়া আরও অভিযোগ করেন, ‘তোতলা আজিজ’ তার সঙ্গে কথা বলার সময় তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও কথোপকথন রেকর্ড করে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি অন্য ব্যক্তির বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তার কাছ থেকে বক্তব্য আদায় এবং মূল বক্তব্য বাদ দিয়ে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।


তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে বিব্রত ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ‘তোতলা আজিজ’ কোনো সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে নীরব থাকেন বলেও অভিযোগ করেন সুমন ভূঁইয়া।


সুমন ভূঁইয়ার বক্তব্যে আরও উঠে আসে, নোয়াখালীর অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মী তার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। সাংবাদিক মানিক ভূঁইয়ার ছত্রছায়া, প্রশ্রয় ও সহযোগিতা পেয়ে তিনি এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন সুমন ভূঁইয়া।


সিনিয়র সাংবাদিক বাদল মিয়ার কঠোর মন্তব্য


দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক বাদল মিয়া ‘তোতলা আজিজ’ সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তার আচরণ ও কর্মকাণ্ড অত্যন্ত আপত্তিকর। মানুষের পেছনে পেছনে ঘুরে কে কোথায় কী করছেন, কখন কার কাছ থেকে টাকা আদায় করা যায়—এসব নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকেন বলে মন্তব্য করেন বাদল মিয়া।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, একজনের কথা অন্যজনের কাছে পৌঁছে দিয়ে মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিভেদ সৃষ্টি করা তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। তার ভাষায়, লোকটি এক ধরনের বেয়াদব স্বভাবের এবং তার আচরণে সাংবাদিক সমাজ বিব্রত।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একাধিক গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেন, ‘তোতলা আজিজ’ নিজেকে শিক্ষিত ও প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন এবং ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে সামাজিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ, মানুষের ব্যক্তিগত কথাবার্তা এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়ে বিভেদ তৈরির প্রবণতা রয়েছে তার মধ্যে।


তাদের আরও দাবি, বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিতে বক্তব্য দেওয়া, অর্থের বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যা কিংবা মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিতর্কিত প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন তারা।


গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে বক্তব্য ও অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতার কারণে অনেকে তাকে দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এমনকি কেউ কেউ তার কর্মকাণ্ডকে মুনাফিকসুলভ বলেও সমালোচনা করেন।


অভিযোগ তুললেই হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ


সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের আরও অভিযোগ, তার বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে কিংবা প্রকাশ্যে অভিযোগ করলে তাদের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে দাবি করেছেন তারা।


ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কর্মকাণ্ড নিয়েও একাধিক প্রতিবেদন


চাঁদাবাজি ও সাংবাদিক সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগের বাইরেও ‘তোতলা আজিজ’-এর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মারামারি, পারিবারিক অশান্তি ও বিভিন্ন বিরোধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।


এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন পোস্টে লাইক-কমেন্ট করা, ভুয়া পরিচয়ে অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা এবং নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে।


সংশ্লিষ্টদের দাবি, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিকতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তার কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একের পর এক অভিযোগ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এসব বিষয়ের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এখন সময়ের দাবি।


সাংবাদিক পরিচয় নাকি ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার?


একাধিক সাংবাদিকের বক্তব্যে একটি বিষয় উঠে এসেছে—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, চাঁদাবাজির অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরির মতো কর্মকাণ্ড পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।


অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা।


প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ:


সাংবাদিকতার পরিচয় কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, চাঁদাবাজি কিংবা কাউকে হয়রানি করার লাইসেন্স হতে পারে না। একজনের বিরুদ্ধে যত গুরুতর অভিযোগই উঠুক, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


একই সঙ্গে চ্যানেল নাইন কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিনিধি পরিচয়ের সত্যতা যাচাই এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এ বিতর্কের অবসান হওয়া সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

CHANNEL H TV

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


চ্যানেল নাইন-এর প্রতিনিধি পরিচয়ে ‘তোতলা আজিজের’ বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ নোয়াখালীর সাংবাদিকরা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

চ্যানেল নাইন-এর প্রতিনিধি পরিচয় ব্যবহার করে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং প্রতারণাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে ‘তোতলা আজিজ’-এর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সাংবাদিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও আলোচনা-সমালোচনা।


একাধিক গণমাধ্যমকর্মীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, আর্থিক সুবিধা আদায় এবং এক সাংবাদিকের বক্তব্য অন্য সাংবাদিকের কাছে পৌঁছে দিয়ে পারস্পরিক বিরোধ তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের খোকনের বক্তব্য


এ বিষয়ে স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের খোকন অভিযোগ করে বলেন, ‘তোতলা আজিজ’ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও স্থান উল্লেখ করে প্রয়োজনে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। এ জন্য নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের সুযোগ রাখার কথাও উল্লেখ করেন।


সাংবাদিক সুমন ভূঁইয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ


সাংবাদিক সুমন ভূঁইয়া আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, তার দাবি অনুযায়ী, ‘তোতলা আজিজ’ প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি করেন। চ্যানেল নাইন-এর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে এমন কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।


সুমন ভূঁইয়া আরও অভিযোগ করেন, ‘তোতলা আজিজ’ তার সঙ্গে কথা বলার সময় তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও কথোপকথন রেকর্ড করে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি অন্য ব্যক্তির বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তার কাছ থেকে বক্তব্য আদায় এবং মূল বক্তব্য বাদ দিয়ে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।


তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে বিব্রত ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ‘তোতলা আজিজ’ কোনো সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে নীরব থাকেন বলেও অভিযোগ করেন সুমন ভূঁইয়া।


সুমন ভূঁইয়ার বক্তব্যে আরও উঠে আসে, নোয়াখালীর অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মী তার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। সাংবাদিক মানিক ভূঁইয়ার ছত্রছায়া, প্রশ্রয় ও সহযোগিতা পেয়ে তিনি এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন সুমন ভূঁইয়া।


সিনিয়র সাংবাদিক বাদল মিয়ার কঠোর মন্তব্য


দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক বাদল মিয়া ‘তোতলা আজিজ’ সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তার আচরণ ও কর্মকাণ্ড অত্যন্ত আপত্তিকর। মানুষের পেছনে পেছনে ঘুরে কে কোথায় কী করছেন, কখন কার কাছ থেকে টাকা আদায় করা যায়—এসব নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকেন বলে মন্তব্য করেন বাদল মিয়া।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, একজনের কথা অন্যজনের কাছে পৌঁছে দিয়ে মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিভেদ সৃষ্টি করা তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। তার ভাষায়, লোকটি এক ধরনের বেয়াদব স্বভাবের এবং তার আচরণে সাংবাদিক সমাজ বিব্রত।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একাধিক গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেন, ‘তোতলা আজিজ’ নিজেকে শিক্ষিত ও প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন এবং ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে সামাজিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ, মানুষের ব্যক্তিগত কথাবার্তা এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়ে বিভেদ তৈরির প্রবণতা রয়েছে তার মধ্যে।


তাদের আরও দাবি, বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিতে বক্তব্য দেওয়া, অর্থের বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যা কিংবা মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিতর্কিত প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন তারা।


গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে বক্তব্য ও অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতার কারণে অনেকে তাকে দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এমনকি কেউ কেউ তার কর্মকাণ্ডকে মুনাফিকসুলভ বলেও সমালোচনা করেন।


অভিযোগ তুললেই হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ


সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের আরও অভিযোগ, তার বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে কিংবা প্রকাশ্যে অভিযোগ করলে তাদের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে দাবি করেছেন তারা।


ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কর্মকাণ্ড নিয়েও একাধিক প্রতিবেদন


চাঁদাবাজি ও সাংবাদিক সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগের বাইরেও ‘তোতলা আজিজ’-এর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মারামারি, পারিবারিক অশান্তি ও বিভিন্ন বিরোধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।


এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন পোস্টে লাইক-কমেন্ট করা, ভুয়া পরিচয়ে অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা এবং নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে।


সংশ্লিষ্টদের দাবি, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিকতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তার কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একের পর এক অভিযোগ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এসব বিষয়ের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এখন সময়ের দাবি।


সাংবাদিক পরিচয় নাকি ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার?


একাধিক সাংবাদিকের বক্তব্যে একটি বিষয় উঠে এসেছে—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, চাঁদাবাজির অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরির মতো কর্মকাণ্ড পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।


অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা।


প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ:


সাংবাদিকতার পরিচয় কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, চাঁদাবাজি কিংবা কাউকে হয়রানি করার লাইসেন্স হতে পারে না। একজনের বিরুদ্ধে যত গুরুতর অভিযোগই উঠুক, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


একই সঙ্গে চ্যানেল নাইন কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিনিধি পরিচয়ের সত্যতা যাচাই এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এ বিতর্কের অবসান হওয়া সম্ভব।


CHANNEL H TV

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রাজিবুল হক রনি
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক:
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
চ্যানেল নাইন-এর প্রতিনিধি পরিচয়ে ‘তোতলা আজিজের’ বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ নোয়াখালীর সাংবাদিকরা
0:00 / 0:00
1x