নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ৬ নম্বর নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মোকসেদ উল্লাহকে ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারণা দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাটেশ্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অলি মেম্বারের পুরাতন বাড়ির বাসিন্দা মোকসেদ উল্লাহ। তিনি মৃত হাসেমের ছেলে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তিনি নিজেই দাবি করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে সমর্থনের প্রকাশ
নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে ছবি, পোস্ট ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে মোকসেদ উল্লাহকে ঘিরে সমর্থকদের একাংশের সক্রিয়তা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জাতীয়তাবাদী মোকসেদ’ নামে পরিচিত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলেও তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পোস্ট দেখা গেছে। এসব পোস্টে লাইক, কমেন্ট ও ইতিবাচক রিঅ্যাকশন রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি অংশ তাকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
তবে অনলাইনে প্রকাশিত এসব পোস্ট বা প্রতিক্রিয়া থেকে সামগ্রিক ভোটারদের মনোভাব নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে সামনে আনছেন মোকসেদ
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও সমর্থনের বিষয়ে মোকসেদ উল্লাহ বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতিফলন।
তার দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে মামলা, হামলা, জেল-জুলুম ও বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “মানুষ আমার প্রতি যে আগ্রহ ও ভালোবাসার নজির দেখিয়েছে, এতে আমার দীর্ঘদিনের জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রতিফলন দেখতে পাই। আমি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী কোনো পরিবারের সন্তান নই; সাধারণ পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ।”
মোকসেদ উল্লাহর দাবি, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও নেতৃত্বের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। দলের প্রভাবশালী নেতৃত্বে থাকা অনেকের ভালোবাসা ও বিশ্বাসও তিনি অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিভিন্ন বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট, ছবি ও কর্মকাণ্ডেও দেখা যায়।
অর্থনৈতিক সক্ষমতার চেয়ে নীতি-আদর্শে আস্থা
চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থিতা প্রসঙ্গে নিজের আর্থিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন মোকসেদ উল্লাহ। তার মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থের প্রভাব দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার সামর্থ্য তার নেই।
মোকসেদ উল্লাহ বলেন, “আমি অর্থনৈতিকভাবে সাধারণ পরিবারের সন্তান। প্রভাবশালীরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার যে পথ অনুসরণ করতে পারেন, আমি তা পারব না। আমার কাছে আছে নীতি, আদর্শ এবং মানুষের ভালোবাসা।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মানুষের ভালোবাসা নিয়েই নির্বাচিত হতে চাই। আমার বিশ্বাস, মানুষ আমাকে যদি নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, তাহলে তারা কোনো বিনিময় ছাড়াই আমাকে ভোট দেবে।”
তার দাবি, স্থানীয় অনেক ভোটার তার সঙ্গে কথা বলে অর্থের বিনিময়ে নয়, ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও আস্থার জায়গা থেকে তাকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
মোকসেদ উল্লাহর ভাষায়, “অনেকে আমাকে বলেছেন—আপনার কোনো টাকার প্রয়োজন নেই। আমরা আপনার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার মতো ভোটার নই। আপনাকে ভালোবেসে নির্বাচিত করব। মানুষের এই ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
এখন নজর দলীয় মনোনয়ন ও মাঠের রাজনীতিতে
নাটেশ্বর ইউনিয়নের নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে।
মোকসেদ উল্লাহকে ঘিরে সমর্থকদের অনলাইন তৎপরতা, তৃণমূলের সমর্থনের দাবি এবং নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বক্তব্য তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনাকে আরও সামনে এনেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কার ভাগ্যে আসে এবং নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের সিদ্ধান্ত কী হয়—সেটিই নির্ধারণ করবে নাটেশ্বর ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র।
নাটেশ্বর ইউনিয়ন সোনাইমুড়ী উপজেলার ৬ নম্বর ইউনিয়ন হিসেবে সরকারি ইউনিয়ন-সংক্রান্ত তথ্যেও উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচনের সময়সূচি, দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এ ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ৬ নম্বর নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মোকসেদ উল্লাহকে ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারণা দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাটেশ্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অলি মেম্বারের পুরাতন বাড়ির বাসিন্দা মোকসেদ উল্লাহ। তিনি মৃত হাসেমের ছেলে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তিনি নিজেই দাবি করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে সমর্থনের প্রকাশ
নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে ছবি, পোস্ট ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে মোকসেদ উল্লাহকে ঘিরে সমর্থকদের একাংশের সক্রিয়তা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জাতীয়তাবাদী মোকসেদ’ নামে পরিচিত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলেও তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পোস্ট দেখা গেছে। এসব পোস্টে লাইক, কমেন্ট ও ইতিবাচক রিঅ্যাকশন রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি অংশ তাকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
তবে অনলাইনে প্রকাশিত এসব পোস্ট বা প্রতিক্রিয়া থেকে সামগ্রিক ভোটারদের মনোভাব নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে সামনে আনছেন মোকসেদ
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও সমর্থনের বিষয়ে মোকসেদ উল্লাহ বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতিফলন।
তার দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে মামলা, হামলা, জেল-জুলুম ও বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “মানুষ আমার প্রতি যে আগ্রহ ও ভালোবাসার নজির দেখিয়েছে, এতে আমার দীর্ঘদিনের জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রতিফলন দেখতে পাই। আমি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী কোনো পরিবারের সন্তান নই; সাধারণ পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ।”
মোকসেদ উল্লাহর দাবি, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও নেতৃত্বের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। দলের প্রভাবশালী নেতৃত্বে থাকা অনেকের ভালোবাসা ও বিশ্বাসও তিনি অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিভিন্ন বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট, ছবি ও কর্মকাণ্ডেও দেখা যায়।
অর্থনৈতিক সক্ষমতার চেয়ে নীতি-আদর্শে আস্থা
চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থিতা প্রসঙ্গে নিজের আর্থিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন মোকসেদ উল্লাহ। তার মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থের প্রভাব দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার সামর্থ্য তার নেই।
মোকসেদ উল্লাহ বলেন, “আমি অর্থনৈতিকভাবে সাধারণ পরিবারের সন্তান। প্রভাবশালীরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার যে পথ অনুসরণ করতে পারেন, আমি তা পারব না। আমার কাছে আছে নীতি, আদর্শ এবং মানুষের ভালোবাসা।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মানুষের ভালোবাসা নিয়েই নির্বাচিত হতে চাই। আমার বিশ্বাস, মানুষ আমাকে যদি নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, তাহলে তারা কোনো বিনিময় ছাড়াই আমাকে ভোট দেবে।”
তার দাবি, স্থানীয় অনেক ভোটার তার সঙ্গে কথা বলে অর্থের বিনিময়ে নয়, ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও আস্থার জায়গা থেকে তাকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
মোকসেদ উল্লাহর ভাষায়, “অনেকে আমাকে বলেছেন—আপনার কোনো টাকার প্রয়োজন নেই। আমরা আপনার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার মতো ভোটার নই। আপনাকে ভালোবেসে নির্বাচিত করব। মানুষের এই ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
এখন নজর দলীয় মনোনয়ন ও মাঠের রাজনীতিতে
নাটেশ্বর ইউনিয়নের নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে।
মোকসেদ উল্লাহকে ঘিরে সমর্থকদের অনলাইন তৎপরতা, তৃণমূলের সমর্থনের দাবি এবং নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বক্তব্য তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনাকে আরও সামনে এনেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কার ভাগ্যে আসে এবং নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের সিদ্ধান্ত কী হয়—সেটিই নির্ধারণ করবে নাটেশ্বর ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র।
নাটেশ্বর ইউনিয়ন সোনাইমুড়ী উপজেলার ৬ নম্বর ইউনিয়ন হিসেবে সরকারি ইউনিয়ন-সংক্রান্ত তথ্যেও উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচনের সময়সূচি, দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এ ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন