চিকিৎসাক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ক্যান্সার গবেষক ও অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার-কে বিশেষ সংবর্ধনা ও গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সেগুনবাগিচাস্থ কেন্দ্রীয় কঁচিকাঁচার মেলা অডিটোরিয়ামে 'নতুন আলো সাহিত্য পরিষদ' ও 'সৃজনশীল সাহিত্য বাংলা'-র যৌথ উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা, স্বরচিত কবিতা পাঠ, পুঁথিপাঠ এবং মনোজ্ঞ গজল পরিবেশন করা হয়।
গণস্বাস্থ্য হোমিওর প্রধান পরামর্শদাতা প্রফেসর ডা. কর্নেল (অব.) মোঃ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ধর্ম ও পানিসম্পদ মন্ত্রী এম নাজিমুদ্দিন আল আজাদ। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাবেক অতিরিক্ত আইজি সর্দার তামিজউদ্দীন আহমেদ (বিপিএম) এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি-র সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদৌল্লা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্বসহ বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বগণ। যাদের মধ্যে ছিলেন— প্রাকৃতজ শামীমরুমি টিটন, একুশে পদকপ্রাপ্ত মনোরঞ্জন ঘোষাল, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক ছটকু আহমেদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শিশু সাহিত্যিক বেগম নাদিরা জাহান (সুরমা জাহিদ), বাংলা একাডেমি ফেলো কবি আসলাম সানি, বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী, কবি নাসির আহমেদ, চিত্রনায়ক ডিএ তায়েব, চলচ্চিত্র পরিচালক জাকির হোসেন রাজু, সুরকার ও গীতিকার প্লাবন কোরেশী এবং ছড়াকার রিফাত নিগার শাপলা।
কথা সাহিত্যিক ইঞ্জিনিয়ার বি এম এরশাদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি নজরুল বাঙালীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. ইভা হামিদ ও কবি লিটন সিদ্দিকী।
সংবর্ধনা গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসক ডা. এস এম সরওয়ার আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “উন্নত চিকিৎসার নামে প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার রোধে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং একই সাথে দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রাষ্ট্রীয় প্রাধান্য দিলে চিকিৎসার নামে দেশ থেকে অর্থপাচার বহুলাংশে কমানো সম্ভব। হোমিওপ্যাথি কেবল রোগের উপশম নয়, মূল উৎপাটন করে স্থায়ী মুক্তি দেয় উল্লেখ করে ডা. সরওয়ার দাবি করেন— সার্জারি ছাড়াই স্বল্প খরচে জটিল সব রোগের সমাধান সম্ভব এবং তিনি নিজে ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, এইডস ও কিডনি জটিলতার মতো প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় সফলতা পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে কয়েকটি জরুরি দাবি তুলে ধরেন:
সরকারি উদ্যোগে একটি আধুনিক ‘হোমিওপ্যাথিক গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ল্যাবরেটরি’ স্থাপন করা।
‘বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল’-এ দক্ষ জনবল ও একজন যোগ্য চৌকস চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ডা. সরওয়ার বলেন, তাঁর স্বপ্ন একটি আধুনিক ‘গণস্বাস্থ্য হোমিও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ এবং পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা, যেন সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে সঠিক চিকিৎসাসেবা পেতে পারে।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জমকালো এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
চিকিৎসাক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ক্যান্সার গবেষক ও অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার-কে বিশেষ সংবর্ধনা ও গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সেগুনবাগিচাস্থ কেন্দ্রীয় কঁচিকাঁচার মেলা অডিটোরিয়ামে 'নতুন আলো সাহিত্য পরিষদ' ও 'সৃজনশীল সাহিত্য বাংলা'-র যৌথ উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা, স্বরচিত কবিতা পাঠ, পুঁথিপাঠ এবং মনোজ্ঞ গজল পরিবেশন করা হয়।
গণস্বাস্থ্য হোমিওর প্রধান পরামর্শদাতা প্রফেসর ডা. কর্নেল (অব.) মোঃ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ধর্ম ও পানিসম্পদ মন্ত্রী এম নাজিমুদ্দিন আল আজাদ। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাবেক অতিরিক্ত আইজি সর্দার তামিজউদ্দীন আহমেদ (বিপিএম) এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি-র সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদৌল্লা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্বসহ বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বগণ। যাদের মধ্যে ছিলেন— প্রাকৃতজ শামীমরুমি টিটন, একুশে পদকপ্রাপ্ত মনোরঞ্জন ঘোষাল, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক ছটকু আহমেদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শিশু সাহিত্যিক বেগম নাদিরা জাহান (সুরমা জাহিদ), বাংলা একাডেমি ফেলো কবি আসলাম সানি, বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী, কবি নাসির আহমেদ, চিত্রনায়ক ডিএ তায়েব, চলচ্চিত্র পরিচালক জাকির হোসেন রাজু, সুরকার ও গীতিকার প্লাবন কোরেশী এবং ছড়াকার রিফাত নিগার শাপলা।
কথা সাহিত্যিক ইঞ্জিনিয়ার বি এম এরশাদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি নজরুল বাঙালীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. ইভা হামিদ ও কবি লিটন সিদ্দিকী।
সংবর্ধনা গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসক ডা. এস এম সরওয়ার আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “উন্নত চিকিৎসার নামে প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার রোধে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং একই সাথে দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রাষ্ট্রীয় প্রাধান্য দিলে চিকিৎসার নামে দেশ থেকে অর্থপাচার বহুলাংশে কমানো সম্ভব। হোমিওপ্যাথি কেবল রোগের উপশম নয়, মূল উৎপাটন করে স্থায়ী মুক্তি দেয় উল্লেখ করে ডা. সরওয়ার দাবি করেন— সার্জারি ছাড়াই স্বল্প খরচে জটিল সব রোগের সমাধান সম্ভব এবং তিনি নিজে ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, এইডস ও কিডনি জটিলতার মতো প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় সফলতা পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে কয়েকটি জরুরি দাবি তুলে ধরেন:
সরকারি উদ্যোগে একটি আধুনিক ‘হোমিওপ্যাথিক গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ল্যাবরেটরি’ স্থাপন করা।
‘বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল’-এ দক্ষ জনবল ও একজন যোগ্য চৌকস চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ডা. সরওয়ার বলেন, তাঁর স্বপ্ন একটি আধুনিক ‘গণস্বাস্থ্য হোমিও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ এবং পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা, যেন সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে সঠিক চিকিৎসাসেবা পেতে পারে।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জমকালো এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন