নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানাধীন ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মোহাম্মদ আজিম মিঞার নাম ব্যবহার করে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক ফেক আইডিতে বক্তব্য, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে সুইয়াজি ল্যান্ড প্রবাসী নিশান ওরফে ‘উজুরি’র বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই ফেক আইডির পরিচালনা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে।
সাংবাদিক আজিম মিঞার দাবি, এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম, মাদক, মদ-গাঁজা, নারীসংক্রান্ত অভিযোগ, পরকীয়া, কবরের ওপর ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’, নারীসংক্রান্ত অভিযোগে আলোচিত ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং আরও কয়েকজনকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাদ ও ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।
ফেক আইডিতে বক্তব্য ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক
অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিক আজিম মিঞার নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে খোলা একটি ফেসবুক ফেক আইডি পরিচালনার সঙ্গে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বাল সাব্বির এবং ‘জংলি জয়নাল’ ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। একই আইডিতে বক্তব্য দিয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা নিশান ওরফে ‘উজুরি’ বলে দাবি করা হয়েছে।
সাংবাদিক আজিম মিঞার অভিযোগ, ওই বক্তব্যের শুরুতেই তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করে তাঁকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজিম মিঞার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে ভিন্ন বিবরণ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে মিরওয় রাশেদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে দুই বছর পড়াশোনা করেন। এরপর নাটেশ্বর ইউনিয়নের মোরশেদ আলম উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাড়ি জমান।
ঢাকায় এসে প্রথমে মামার দোকানে চাকরি শুরু করেন আজিম মিঞা। কিছুদিন পর নিজেই ব্যবসা পরিচালনায় যুক্ত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর ব্যবসায়িক ও সামাজিক অবস্থান আগের তুলনায় ভালো। তিনি মনে করেন, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট দেওয়া এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার কারণেই একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।
অন্যদিকে, নিশান ওরফে ‘উজুরি’র শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল বলে স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তাঁর আর্থিক ও সামাজিক অবস্থানও অনেক খারাপ ছিল,
নিশানের ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, নিশান ওরফে ‘উজুরি’র ব্যক্তিজীবন ও আচরণ নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা ও বিতর্ক ছিল বলে দাবি করা হয়। ঢাকায় এসে চাকরিজীবনে প্রবেশের পর মালিকপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন বলে জানা গেছে।
তাঁর পারিবারিক জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাঁর চাচা সিদ্দিকুল্লাহর মেয়েকে বিয়ে করেন এবং প্রথম সংসারে একাধিক সন্তান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ ও নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
এ ছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবস্থানরত অবস্থায় মাদক সেবন ও নারীসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে একজন হিন্দু নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর তিনি ওই নারীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, সমঝোতার চেষ্টা এবং অর্থসম্পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রথম স্ত্রীর পরিবার ঢাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন এবং পরবর্তী সময়ে বিয়ে করা হিন্দু নারীকে গ্রামের বাড়িতে রাখার অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের সময় প্রথম স্ত্রীর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নিশান সোয়জি ল্যান্ডে পাড়ি জমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কবরের ওপর ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিক আজিম মিঞার প্রতিবাদ
সাংবাদিক আজিম মিঞা জানান, তিনি ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠন’-এর মাধ্যমে মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন।
তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বক্তব্যে কবরের ওপর ভবন নির্মাণ, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’কে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগ এবং ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারকে কেন্দ্র করে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলে তিনি জানান।
আজিম মিঞার অভিযোগ, এসব বিষয়ের মধ্যে সুদের ব্যবসা, ঘুষ, নারীসংক্রান্ত অনিয়ম ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, এবং নারী নারি কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশের বড় ছেলে এবং তার পরিবার আজিমের বিল্ডিং ঘরে চুরি পর্যন্ত করেন। যা একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে মসজিদ-মাদ্রাসাকে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠীকে সংগঠিত করার চেষ্টা করা হয়। এ প্রসঙ্গে ‘জংলি জয়নাল’ ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’-এর নেতৃত্বের বিষয়টিও তাঁর অভিযোগে উঠে এসেছে।
মানবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ
সাংবাদিক আজিম মিঞা জানান, ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠন’-এর মাধ্যমে তিনি এলাকায় বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা তাঁর কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে তাঁর সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি মানবিক সংগঠনের কার্যক্রমও বাধার মুখে পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।
আজিম মিঞার অভিযোগ, তাঁর নাম ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মক ফেক আইডিতে বক্তব্য প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ফেক আইডিটি কে পরিচালনা করছেন, কারা এতে বক্তব্য দিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নিশান ওরফে ‘উজুরি’, কুখ্যাত বলাৎকারের সন্তান আব্দুল্লাহ বাল সাব্বির, ‘জংলি জয়নাল’ ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’, পর নারী নারী দর্শনকারী আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং প্রতিবেদনে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানাধীন ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মোহাম্মদ আজিম মিঞার নাম ব্যবহার করে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক ফেক আইডিতে বক্তব্য, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে সুইয়াজি ল্যান্ড প্রবাসী নিশান ওরফে ‘উজুরি’র বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই ফেক আইডির পরিচালনা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে।
সাংবাদিক আজিম মিঞার দাবি, এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম, মাদক, মদ-গাঁজা, নারীসংক্রান্ত অভিযোগ, পরকীয়া, কবরের ওপর ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’, নারীসংক্রান্ত অভিযোগে আলোচিত ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং আরও কয়েকজনকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাদ ও ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।
ফেক আইডিতে বক্তব্য ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক
অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিক আজিম মিঞার নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে খোলা একটি ফেসবুক ফেক আইডি পরিচালনার সঙ্গে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বাল সাব্বির এবং ‘জংলি জয়নাল’ ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। একই আইডিতে বক্তব্য দিয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা নিশান ওরফে ‘উজুরি’ বলে দাবি করা হয়েছে।
সাংবাদিক আজিম মিঞার অভিযোগ, ওই বক্তব্যের শুরুতেই তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করে তাঁকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজিম মিঞার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে ভিন্ন বিবরণ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে মিরওয় রাশেদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে দুই বছর পড়াশোনা করেন। এরপর নাটেশ্বর ইউনিয়নের মোরশেদ আলম উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাড়ি জমান।
ঢাকায় এসে প্রথমে মামার দোকানে চাকরি শুরু করেন আজিম মিঞা। কিছুদিন পর নিজেই ব্যবসা পরিচালনায় যুক্ত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর ব্যবসায়িক ও সামাজিক অবস্থান আগের তুলনায় ভালো। তিনি মনে করেন, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট দেওয়া এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার কারণেই একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।
অন্যদিকে, নিশান ওরফে ‘উজুরি’র শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল বলে স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তাঁর আর্থিক ও সামাজিক অবস্থানও অনেক খারাপ ছিল,
নিশানের ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, নিশান ওরফে ‘উজুরি’র ব্যক্তিজীবন ও আচরণ নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা ও বিতর্ক ছিল বলে দাবি করা হয়। ঢাকায় এসে চাকরিজীবনে প্রবেশের পর মালিকপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন বলে জানা গেছে।
তাঁর পারিবারিক জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাঁর চাচা সিদ্দিকুল্লাহর মেয়েকে বিয়ে করেন এবং প্রথম সংসারে একাধিক সন্তান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ ও নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
এ ছাড়া, তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবস্থানরত অবস্থায় মাদক সেবন ও নারীসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে একজন হিন্দু নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর তিনি ওই নারীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, সমঝোতার চেষ্টা এবং অর্থসম্পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রথম স্ত্রীর পরিবার ঢাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন এবং পরবর্তী সময়ে বিয়ে করা হিন্দু নারীকে গ্রামের বাড়িতে রাখার অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের সময় প্রথম স্ত্রীর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নিশান সোয়জি ল্যান্ডে পাড়ি জমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কবরের ওপর ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিক আজিম মিঞার প্রতিবাদ
সাংবাদিক আজিম মিঞা জানান, তিনি ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠন’-এর মাধ্যমে মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন।
তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বক্তব্যে কবরের ওপর ভবন নির্মাণ, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’কে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগ এবং ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারকে কেন্দ্র করে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলে তিনি জানান।
আজিম মিঞার অভিযোগ, এসব বিষয়ের মধ্যে সুদের ব্যবসা, ঘুষ, নারীসংক্রান্ত অনিয়ম ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, এবং নারী নারি কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশের বড় ছেলে এবং তার পরিবার আজিমের বিল্ডিং ঘরে চুরি পর্যন্ত করেন। যা একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে মসজিদ-মাদ্রাসাকে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠীকে সংগঠিত করার চেষ্টা করা হয়। এ প্রসঙ্গে ‘জংলি জয়নাল’ ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’-এর নেতৃত্বের বিষয়টিও তাঁর অভিযোগে উঠে এসেছে।
মানবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ
সাংবাদিক আজিম মিঞা জানান, ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠন’-এর মাধ্যমে তিনি এলাকায় বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা তাঁর কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে তাঁর সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি মানবিক সংগঠনের কার্যক্রমও বাধার মুখে পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।
আজিম মিঞার অভিযোগ, তাঁর নাম ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মক ফেক আইডিতে বক্তব্য প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ফেক আইডিটি কে পরিচালনা করছেন, কারা এতে বক্তব্য দিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নিশান ওরফে ‘উজুরি’, কুখ্যাত বলাৎকারের সন্তান আব্দুল্লাহ বাল সাব্বির, ‘জংলি জয়নাল’ ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’, জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’, পর নারী নারী দর্শনকারী আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং প্রতিবেদনে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন