CHANNEL H TV

শিকড় থেকে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক বহুমাত্রিক পথচলার নাম মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ



শিকড় থেকে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক বহুমাত্রিক পথচলার নাম মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ
শিকড় থেকে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক বহুমাত্রিক পথচলার নাম মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ

মানুষের পরিচয় কেবল তার নাম কিংবা পেশায় সীমাবদ্ধ থাকে না। একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্মিত হয় তার শিকড়,পারিবারিক ঐতিহ্য, কর্মনিষ্ঠা, ব্যক্তিগত স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি তার সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে।

মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ তেমনই এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব-যাঁর জীবনের একদিকে রয়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের মাটির গভীরে প্রোথিত পারিবারিক শিকড়, অন্যদিকে রয়েছে কর্মজীবনের দায়িত্ব, চলচ্চিত্রের প্রতি অনুরাগ, অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, প্রযোজনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সাংগঠনিক পথচলা।

শিকড়ের পরিচয়:মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের পারিবারিক শিকড় নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবার শেখবাড়িতে।তাঁর পিতা মরহুম মোঃ মনির হোসেন শেখ এবং মাতা মরহুমা হালিমা বেগম।

একজন মানুষের জীবনের প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার। পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্পর্ক, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজের শিকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা একজন মানুষ ছোটবেলা থেকে লাভ করেন, তারই ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে তাঁর ব্যক্তিত্ব।মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবনপরিচয়েও সেই পারিবারিক শিকড়ের গুরুত্ব রয়েছে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জনপদ তাঁর পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। সেই শিকড়কে ধারণ করেই পরবর্তী জীবনে তিনি রাজধানী ঢাকার কর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিসরে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।ধর্মীয় পরিচয়ে তিনি একজন মুসলিম।

কর্মজীবনের পরিচয়:মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ পেশাগত জীবনে একজন চাকরিজীবী। বর্তমানে তিনি গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করার অর্থ হলো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দায়িত্ববোধ, সমন্বয় এবং পেশাগত শৃঙ্খলার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। তাঁর কর্মজীবনের এই অধ্যায় তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।তবে তাঁর পরিচয় কেবল কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি নিজের সৃজনশীল আগ্রহকে ধরে রেখেছেন শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে।

অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা:মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের অন্যতম প্রধান শখ অভিনয় ও প্রযোজনা।

চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে চলচ্চিত্রের সৃজনশীল জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন।তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:---

  • অন্ধকারের রাজনীতি

  • ভালোবাসার বন্ধন

  • হটাও দুর্নীতি

  • এছাড়াও আরও অনেক অজানা কয়েকটি চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্রে অভিনয় একজন মানুষের সৃজনশীল অনুভূতিকে প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। চরিত্রের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন, সমাজ, সম্পর্ক ও বাস্তবতার বিভিন্ন দিককে উপস্থাপন করা যায়। সানোয়ার হোসেন শেখের অভিনয়জীবনের সম্পৃক্ততাও তাঁর শিল্পমনস্কতার পরিচয় বহন করে।

প্রযোজনায় পদচারণা:অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছেন।তাঁর প্রযোজিত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:-

  • এক পায়ে নূপুর

  • রূপসী কন্যা

  • প্রলয়

চলচ্চিত্র প্রযোজনা একটি সমন্বিত সৃজনশীল ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। একটি চলচ্চিত্রের পেছনে শিল্পী, নির্মাতা, কলাকুশলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকে। সেই বৃহত্তর সৃজনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়া চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।অভিনয় তাঁকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে, আর প্রযোজনা তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণের বৃহত্তর পরিসরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে।

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা:-ব্যক্তিগতভাবে অভিনয় ও চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

তিনি কালচারাল হারমোনি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, ঢাকা-এর সহ-সভাপতি।সংস্কৃতি মানুষের আত্মপরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র, অভিনয়, লোকঐতিহ্য-সবকিছুর সমন্বয়েই একটি জাতির সাংস্কৃতিক সত্তা গড়ে ওঠে। সেই সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত থাকা তাঁর সংস্কৃতিমনস্কতার আরেকটি দিক।

নিজের এলাকার মানুষের সঙ্গে বন্ধন:-শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি ঢাকাস্থ মোহনগঞ্জ সমিতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, ঢাকা-এর সহ-সভাপতি।নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সামাজিক বন্ধনকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের সমিতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মোহনগঞ্জের সন্তান হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করেও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় রয়েছে-এটি তাঁর পরিচয়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক:-মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর সঙ্গেও সহ-সভাপতি হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর সামাজিক পরিচয়কে আরও বিস্তৃত করেছে।

সাহিত্য-সংস্কৃতির এক পরিচিত পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্র:-মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের পারিবারিক পরিচয়ের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক হলো-বাংলাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মা তাঁর চাচাতো বোন।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের জগতে একটি সুপরিচিত নাম। তাঁর পরিবারের সঙ্গে এই আত্মীয়তার সূত্র মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের পারিবারিক পরিচয়ে একটি উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংযোগ সৃষ্টি করেছে।

তবে আত্মীয়তার পরিচয়ের বাইরেও সানোয়ার হোসেন শেখের নিজস্ব পথচলা রয়েছে। কর্মজীবন, অভিনয়, চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নির্মাণ করেছেন।

ব্যক্তিত্বের বহুমাত্রিকতা:-একজন মানুষ একই সঙ্গে কর্মজীবী, শিল্পপ্রেমী, অভিনেতা, প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাংগঠনিক কর্মী হতে পারেন-মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবন সেই বহুমাত্রিকতার একটি উদাহরণ।তাঁর পেশাগত পরিচয় তাঁকে দায়িত্ব ও কর্মশৃঙ্খলার জগতে যুক্ত করেছে। চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ তাঁকে নিয়ে গেছে অভিনয় ও প্রযোজনার জগতে। আর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা তাঁকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এই তিনটি প্রবাহ-কর্ম, সৃজনশীলতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা-তাঁর বর্তমান পরিচয়কে একটি বিস্তৃত মাত্রা দিয়েছেন।

বর্তমান বসবাস জীবন:-বর্তমানে মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ মগবাজার, ইস্কাটন, রমনা, ঢাকা এলাকায় বসবাস করছেন।

রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে তাঁর পেশাগত জীবন, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে।একদিকে কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব, অন্যদিকে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা-এই দুইয়ের সমন্বয়েই এগিয়ে চলেছে তাঁর বর্তমান জীবন।

উত্তরাধিকার ও পথচলার তাৎপর্য:-একটি জীবনকে মূল্যায়ন করতে গেলে শুধু মানুষটি কোথায় জন্মেছেন কিংবা কী পেশায় আছেন, তা দেখলেই হয় না। দেখতে হয় তিনি তাঁর শিকড়কে কতটা ধারণ করেছেন, নিজের আগ্রহকে কতটা কাজে রূপ দিয়েছেন এবং সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে কতটা সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবনপথে রয়েছে গ্রামের শিকড় থেকে রাজধানীর কর্মজীবনে উঠে আসার গল্প: রয়েছে চাকরিজীবনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা: রয়েছে অভিনয় ও প্রযোজনার অভিজ্ঞতা: রয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা: রয়েছে নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার সাংগঠনিক প্রচেষ্টা।তাঁর জীবন তাই একক কোনো পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ নয়।

তিনি মোহনগঞ্জের সন্তান,তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের উত্তরসূরি,তিনি একজন পেশাজীবী,তিনি চলচ্চিত্রপ্রেমী ও অভিনেতা,তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গে সম্পৃক্ত,এবং তিনি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একজন সংগঠক।এই বহুমাত্রিক পরিচয়ের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবন ও কর্মের নিজস্ব আলেখ্য।

পরিশেষে:-জীবনের পথ কখনো সরলরেখায় এগিয়ে চলে না। কখনো কর্মজীবন মানুষকে একদিকে নিয়ে যায়, আবার হৃদয়ের শিল্পবোধ তাকে অন্যদিকে টেনে নিয়ে যায়। সানোয়ার হোসেন শেখের জীবনেও পেশা ও সৃজনশীলতার এই দুই ধারার সমান্তরাল পথচলা এক অনন্য উদাহরণ।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার শেখবাড়ির পারিবারিক শিকড় থেকে রাজধানী ঢাকার কর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিসর-এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি নিজের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন কর্মজীবন, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির নানা অধ্যায়।

মানুষ চলে যায়, কিন্তু মানুষের কর্ম, সম্পর্ক, সৃষ্টিশীলতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার স্মৃতি থেকে যায়। সেই অর্থে একজন মানুষের জীবনকাহিনি শুধু তাঁর নিজের গল্প নয়, তা হয়ে ওঠে তাঁর সময়, সমাজ ও পরিবেশেরও একটি দলিল।

মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবনও সেই চলমান দলিলের একটি অধ্যায়-যেখানে ঐতিহ্যের শিকড়, কর্মের দায়িত্ব এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা একসূত্রে গাঁথায়, মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী।

আপনার মতামত লিখুন

CHANNEL H TV

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


শিকড় থেকে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক বহুমাত্রিক পথচলার নাম মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মানুষের পরিচয় কেবল তার নাম কিংবা পেশায় সীমাবদ্ধ থাকে না। একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্মিত হয় তার শিকড়,পারিবারিক ঐতিহ্য, কর্মনিষ্ঠা, ব্যক্তিগত স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি তার সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে।

মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ তেমনই এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব-যাঁর জীবনের একদিকে রয়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের মাটির গভীরে প্রোথিত পারিবারিক শিকড়, অন্যদিকে রয়েছে কর্মজীবনের দায়িত্ব, চলচ্চিত্রের প্রতি অনুরাগ, অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, প্রযোজনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সাংগঠনিক পথচলা।

শিকড়ের পরিচয়:মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের পারিবারিক শিকড় নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবার শেখবাড়িতে।তাঁর পিতা মরহুম মোঃ মনির হোসেন শেখ এবং মাতা মরহুমা হালিমা বেগম।

একজন মানুষের জীবনের প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার। পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্পর্ক, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজের শিকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা একজন মানুষ ছোটবেলা থেকে লাভ করেন, তারই ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে তাঁর ব্যক্তিত্ব।মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবনপরিচয়েও সেই পারিবারিক শিকড়ের গুরুত্ব রয়েছে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জনপদ তাঁর পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। সেই শিকড়কে ধারণ করেই পরবর্তী জীবনে তিনি রাজধানী ঢাকার কর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিসরে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।ধর্মীয় পরিচয়ে তিনি একজন মুসলিম।

কর্মজীবনের পরিচয়:মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ পেশাগত জীবনে একজন চাকরিজীবী। বর্তমানে তিনি গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করার অর্থ হলো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দায়িত্ববোধ, সমন্বয় এবং পেশাগত শৃঙ্খলার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। তাঁর কর্মজীবনের এই অধ্যায় তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।তবে তাঁর পরিচয় কেবল কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি নিজের সৃজনশীল আগ্রহকে ধরে রেখেছেন শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে।

অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা:মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের অন্যতম প্রধান শখ অভিনয় ও প্রযোজনা।

চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে চলচ্চিত্রের সৃজনশীল জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন।তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:---

  • অন্ধকারের রাজনীতি

  • ভালোবাসার বন্ধন

  • হটাও দুর্নীতি

  • এছাড়াও আরও অনেক অজানা কয়েকটি চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্রে অভিনয় একজন মানুষের সৃজনশীল অনুভূতিকে প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। চরিত্রের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন, সমাজ, সম্পর্ক ও বাস্তবতার বিভিন্ন দিককে উপস্থাপন করা যায়। সানোয়ার হোসেন শেখের অভিনয়জীবনের সম্পৃক্ততাও তাঁর শিল্পমনস্কতার পরিচয় বহন করে।

প্রযোজনায় পদচারণা:অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছেন।তাঁর প্রযোজিত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:-

  • এক পায়ে নূপুর

  • রূপসী কন্যা

  • প্রলয়

চলচ্চিত্র প্রযোজনা একটি সমন্বিত সৃজনশীল ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। একটি চলচ্চিত্রের পেছনে শিল্পী, নির্মাতা, কলাকুশলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকে। সেই বৃহত্তর সৃজনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়া চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।অভিনয় তাঁকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে, আর প্রযোজনা তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণের বৃহত্তর পরিসরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে।

শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা:-ব্যক্তিগতভাবে অভিনয় ও চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

তিনি কালচারাল হারমোনি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, ঢাকা-এর সহ-সভাপতি।সংস্কৃতি মানুষের আত্মপরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র, অভিনয়, লোকঐতিহ্য-সবকিছুর সমন্বয়েই একটি জাতির সাংস্কৃতিক সত্তা গড়ে ওঠে। সেই সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত থাকা তাঁর সংস্কৃতিমনস্কতার আরেকটি দিক।

নিজের এলাকার মানুষের সঙ্গে বন্ধন:-শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি ঢাকাস্থ মোহনগঞ্জ সমিতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, ঢাকা-এর সহ-সভাপতি।নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সামাজিক বন্ধনকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের সমিতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মোহনগঞ্জের সন্তান হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করেও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় রয়েছে-এটি তাঁর পরিচয়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক:-মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর সঙ্গেও সহ-সভাপতি হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর সামাজিক পরিচয়কে আরও বিস্তৃত করেছে।

সাহিত্য-সংস্কৃতির এক পরিচিত পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্র:-মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের পারিবারিক পরিচয়ের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক হলো-বাংলাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মা তাঁর চাচাতো বোন।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের জগতে একটি সুপরিচিত নাম। তাঁর পরিবারের সঙ্গে এই আত্মীয়তার সূত্র মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের পারিবারিক পরিচয়ে একটি উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংযোগ সৃষ্টি করেছে।

তবে আত্মীয়তার পরিচয়ের বাইরেও সানোয়ার হোসেন শেখের নিজস্ব পথচলা রয়েছে। কর্মজীবন, অভিনয়, চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নির্মাণ করেছেন।

ব্যক্তিত্বের বহুমাত্রিকতা:-একজন মানুষ একই সঙ্গে কর্মজীবী, শিল্পপ্রেমী, অভিনেতা, প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাংগঠনিক কর্মী হতে পারেন-মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবন সেই বহুমাত্রিকতার একটি উদাহরণ।তাঁর পেশাগত পরিচয় তাঁকে দায়িত্ব ও কর্মশৃঙ্খলার জগতে যুক্ত করেছে। চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ তাঁকে নিয়ে গেছে অভিনয় ও প্রযোজনার জগতে। আর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা তাঁকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এই তিনটি প্রবাহ-কর্ম, সৃজনশীলতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা-তাঁর বর্তমান পরিচয়কে একটি বিস্তৃত মাত্রা দিয়েছেন।

বর্তমান বসবাস জীবন:-বর্তমানে মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ মগবাজার, ইস্কাটন, রমনা, ঢাকা এলাকায় বসবাস করছেন।

রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে তাঁর পেশাগত জীবন, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে।একদিকে কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব, অন্যদিকে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা-এই দুইয়ের সমন্বয়েই এগিয়ে চলেছে তাঁর বর্তমান জীবন।

উত্তরাধিকার ও পথচলার তাৎপর্য:-একটি জীবনকে মূল্যায়ন করতে গেলে শুধু মানুষটি কোথায় জন্মেছেন কিংবা কী পেশায় আছেন, তা দেখলেই হয় না। দেখতে হয় তিনি তাঁর শিকড়কে কতটা ধারণ করেছেন, নিজের আগ্রহকে কতটা কাজে রূপ দিয়েছেন এবং সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে কতটা সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবনপথে রয়েছে গ্রামের শিকড় থেকে রাজধানীর কর্মজীবনে উঠে আসার গল্প: রয়েছে চাকরিজীবনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা: রয়েছে অভিনয় ও প্রযোজনার অভিজ্ঞতা: রয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা: রয়েছে নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার সাংগঠনিক প্রচেষ্টা।তাঁর জীবন তাই একক কোনো পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ নয়।

তিনি মোহনগঞ্জের সন্তান,তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের উত্তরসূরি,তিনি একজন পেশাজীবী,তিনি চলচ্চিত্রপ্রেমী ও অভিনেতা,তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গে সম্পৃক্ত,এবং তিনি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একজন সংগঠক।এই বহুমাত্রিক পরিচয়ের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবন ও কর্মের নিজস্ব আলেখ্য।

পরিশেষে:-জীবনের পথ কখনো সরলরেখায় এগিয়ে চলে না। কখনো কর্মজীবন মানুষকে একদিকে নিয়ে যায়, আবার হৃদয়ের শিল্পবোধ তাকে অন্যদিকে টেনে নিয়ে যায়। সানোয়ার হোসেন শেখের জীবনেও পেশা ও সৃজনশীলতার এই দুই ধারার সমান্তরাল পথচলা এক অনন্য উদাহরণ।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার শেখবাড়ির পারিবারিক শিকড় থেকে রাজধানী ঢাকার কর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিসর-এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি নিজের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন কর্মজীবন, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির নানা অধ্যায়।

মানুষ চলে যায়, কিন্তু মানুষের কর্ম, সম্পর্ক, সৃষ্টিশীলতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার স্মৃতি থেকে যায়। সেই অর্থে একজন মানুষের জীবনকাহিনি শুধু তাঁর নিজের গল্প নয়, তা হয়ে ওঠে তাঁর সময়, সমাজ ও পরিবেশেরও একটি দলিল।

মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখের জীবনও সেই চলমান দলিলের একটি অধ্যায়-যেখানে ঐতিহ্যের শিকড়, কর্মের দায়িত্ব এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা একসূত্রে গাঁথায়, মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী।


CHANNEL H TV

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রাজিবুল হক রনি
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক:
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
শিকড় থেকে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক বহুমাত্রিক পথচলার নাম মোঃ সানোয়ার হোসেন শেখ
0:00 / 0:00
1x