বয়স ৪৮-এর দৌড়গোড়ায় পৌঁছালেও ক্রিকেটীয় ক্ষুধা যে এতটুকু কমেনি, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন ইমরান তাহির। এখনই ব্যাট-বল তুলে রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই দক্ষিণ আফ্রিকার এই লেগ স্পিনারের। বরং আগামী ২০২৭ সালেও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে মাঠে নামার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সমাপ্ত সিপিএল মৌসুমে ৪৭ বছর বয়সেও বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তাহির। অধিনায়ক হিসেবে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে কোয়ালিফায়ার-২ পর্যন্ত নিয়ে যান তিনি। তবে জ্যামাইকা কিংসমেনের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তার দলকে।
টুর্নামেন্ট শেষে জর্জটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাহির জানান, গায়ানার ভালোবাসাই তাকে বারবার ফিরিয়ে আনে। তিনি বলেন, “আমি আবার ফিরে এসে খেলতে চাই, কারণ আমার মনে হয় এটা আমার বাড়ি। ক্যারিয়ারের শেষটাও গায়ানার দর্শকদের সামনেই করতে চাই।”
রেকর্ডে মোড়ানো এক মৌসুম
চলতি সিপিএলে ৪৭ বছর বয়সী এই স্পিনার যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৬টি উইকেট শিকার করেছেন (হুনাইন শাহ, আলজারি জোসেফ ও ম্যাথু ফোর্ডের সাথে)। একই সাথে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে প্রথম বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ১০০টি ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, সুনীল নারিনকে পেছনে ফেলে বর্তমানে ১৪৬ উইকেট নিয়ে সিপিএলের সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির স্থানটি এককভাবে দখল করেছেন তাহির। ২০১৮ সাল থেকে গায়ানার হয়ে ১০২টি ম্যাচে এই বিশাল কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ১৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে টি-টোয়েন্টি ফাইভ-উইকেট হলের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন এই লেগি।
ফিটনেসের কঠোর মূল্যায়নে টিকে থাকা
দীর্ঘদিন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে মান ধরে রাখা প্রসঙ্গে তাহির তার কঠোর জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ফিট থাকা সহজ নয়। কেউ সামনে আইসক্রিম খেলে নিজেকে সামলানো কঠিন হলেও লক্ষ্য ঠিক থাকলে তা করতে হয়। আগামী বছরগুলোতে খেলা চালিয়ে যেতে হলে এই ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।”
২০২৩ সালে তাহিরের নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো সিপিএল শিরোপা জেতে গায়ানা। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও তার অধীনে দলটি ফাইনালে খেলে। এছাড়া গ্লোবাল সুপার লিগে বিশ্বমানের একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দলকে হারিয়ে গায়ানাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি।
তবে আগামী মৌসুমে মাঠে নামার বিষয়টি নিজের ইচ্ছার পাশাপাশি দলীয় ব্যবস্থাপনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ বোলার। তাহির বলেন, “অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সেরাটা দিয়েছি। এখন মালিকপক্ষ ও ম্যানেজমেন্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে সুযোগ পেলে আমি আবারও বল হাতে নামতে প্রস্তুত।”

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বয়স ৪৮-এর দৌড়গোড়ায় পৌঁছালেও ক্রিকেটীয় ক্ষুধা যে এতটুকু কমেনি, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন ইমরান তাহির। এখনই ব্যাট-বল তুলে রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই দক্ষিণ আফ্রিকার এই লেগ স্পিনারের। বরং আগামী ২০২৭ সালেও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে মাঠে নামার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সমাপ্ত সিপিএল মৌসুমে ৪৭ বছর বয়সেও বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তাহির। অধিনায়ক হিসেবে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে কোয়ালিফায়ার-২ পর্যন্ত নিয়ে যান তিনি। তবে জ্যামাইকা কিংসমেনের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তার দলকে।
টুর্নামেন্ট শেষে জর্জটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাহির জানান, গায়ানার ভালোবাসাই তাকে বারবার ফিরিয়ে আনে। তিনি বলেন, “আমি আবার ফিরে এসে খেলতে চাই, কারণ আমার মনে হয় এটা আমার বাড়ি। ক্যারিয়ারের শেষটাও গায়ানার দর্শকদের সামনেই করতে চাই।”
রেকর্ডে মোড়ানো এক মৌসুম
চলতি সিপিএলে ৪৭ বছর বয়সী এই স্পিনার যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৬টি উইকেট শিকার করেছেন (হুনাইন শাহ, আলজারি জোসেফ ও ম্যাথু ফোর্ডের সাথে)। একই সাথে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে প্রথম বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ১০০টি ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়, সুনীল নারিনকে পেছনে ফেলে বর্তমানে ১৪৬ উইকেট নিয়ে সিপিএলের সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির স্থানটি এককভাবে দখল করেছেন তাহির। ২০১৮ সাল থেকে গায়ানার হয়ে ১০২টি ম্যাচে এই বিশাল কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ১৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে টি-টোয়েন্টি ফাইভ-উইকেট হলের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন এই লেগি।
ফিটনেসের কঠোর মূল্যায়নে টিকে থাকা
দীর্ঘদিন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে মান ধরে রাখা প্রসঙ্গে তাহির তার কঠোর জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ফিট থাকা সহজ নয়। কেউ সামনে আইসক্রিম খেলে নিজেকে সামলানো কঠিন হলেও লক্ষ্য ঠিক থাকলে তা করতে হয়। আগামী বছরগুলোতে খেলা চালিয়ে যেতে হলে এই ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।”
২০২৩ সালে তাহিরের নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো সিপিএল শিরোপা জেতে গায়ানা। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও তার অধীনে দলটি ফাইনালে খেলে। এছাড়া গ্লোবাল সুপার লিগে বিশ্বমানের একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দলকে হারিয়ে গায়ানাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি।
তবে আগামী মৌসুমে মাঠে নামার বিষয়টি নিজের ইচ্ছার পাশাপাশি দলীয় ব্যবস্থাপনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ বোলার। তাহির বলেন, “অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সেরাটা দিয়েছি। এখন মালিকপক্ষ ও ম্যানেজমেন্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে সুযোগ পেলে আমি আবারও বল হাতে নামতে প্রস্তুত।”

আপনার মতামত লিখুন