উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিশেষ প্রতিনিধি ||
প্রায় দেড় বছর পর ধীরে ধীরে উন্মোচনের পথে ‘আমাদের নোয়াখালী’ নামের ফেসবুক ফেক আইডির পরিচালনাকারী ও কর্মকাণ্ডের রহস্য। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাইবার-সংক্রান্ত অনুসন্ধানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অভিযোগে থাকা আইডিটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছেন অভিযোগকারীরা। এ ঘটনায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির মোস্তফা চৌকিদারের ছেলে আনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে উঠেছে নানা গুরুতর অভিযোগ।রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি ব্যবহার করে ফেক আইডি পরিচালনার অভিযোগঅভিযোগ রয়েছে, ‘আমাদের নোয়াখালী’ নামের ফেসবুক আইডিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের পাশাপাশি প্রোফাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ছবি ও পরিচয় ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী এবং আইডিটি প্রকৃতপক্ষে কারা পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটির পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে এবং এ ঘটনায় আনোয়ার চৌকিদারের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তবে আইডিটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ও তাঁর ভূমিকা নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।ধর্মীয় লেবাস, মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি নিয়ে প্রশ্নঅভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার চৌকিদার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করেন। তাঁর ব্যক্তিগত আইডির নাম ‘আনোয়ার আনোয়ার’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় পোশাক-আশাক ও লেবাস ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ধার্মিক হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁর ধর্মীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের ভাষায়, তাঁর উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বললেই চলে।অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ধর্মীয় পরিচয় ও মাদ্রাসার ছবি ব্যবহার করে নিজেকে ধার্মিক হিসেবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সেই পরিচয়ের সামঞ্জস্য কতটুকু?বলাৎকার, কিশোর গ্যাং, গাঁজা, সুদ-ঘুষ ও কবরের ওপর ভবন নির্মাণ নিয়ে অভিযোগআনোয়ার চৌকিদারকে ঘিরে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে বলাৎকার, কিশোর গ্যাং, গাঁজা, সুদ, ঘুষ, নারীসংক্রান্ত অপরাধ এবং কবরের ওপর ভবন নির্মাণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অসংগতিপূর্ণ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার পরিবর্তে তিনি কথিত অপরাধীদের পাহারাদার হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন কিংবা তাঁদের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।তবে এসব অভিযোগের প্রতিটির সত্যতা পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে যৌন অপরাধ, আর্থিক অনিয়ম ও কবরের ওপর ভবন নির্মাণের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ প্রমাণ, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।অন্যায়ের প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট শেয়ারের অভিযোগপ্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাংবাদিক আজিম মিঞাকে কেন্দ্র করেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ‘আমাদের নোয়াখালী’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক আজিম মিঞাকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে অসংখ্য পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর নাম ব্যঙ্গ করে তৈরি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ থাকা ফেক আইডির পোস্টও শেয়ার করার অভিযোগ রয়েছে আনোয়ার চৌকিদারের বিরুদ্ধে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট, ফতোয়াসদৃশ বক্তব্য এবং অন্যের পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে তিনি নিজেকে জ্ঞানী-গুণী ও প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদকারীদের বিভিন্নভাবে অপদস্ত, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে।তাঁদের দাবি, সমাজে অন্যায়-অবিচার ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবাদ না করে তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। এ কারণে স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।দেড় বছর আগের অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আইডি শনাক্তের দাবিঅভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর আগে ‘আমাদের নোয়াখালী’ নামের ফেসবুক আইডিটি নিয়ে অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সময় পর সাইবার-সংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন বলে তাঁরা দাবি করছেন।এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আইডিটি কে তৈরি করেছিলেন, কারা পরিচালনা করতেন, কী উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সাংবাদিক আজিম মিঞাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পোস্টগুলোর পেছনে কারা জড়িত ছিলেন?এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আইডিটির নিয়ন্ত্রণ, পোস্ট প্রকাশের ইতিহাস, সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য এবং অভিযোগের পক্ষে থাকা প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।দ্বিমুখী আচরণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বিতর্কিত করার অভিযোগস্থানীয় অভিযোগকারীদের একাংশের ভাষ্য, আনোয়ার চৌকিদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে জ্ঞানী-গুণী হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বিভিন্ন ধরনের পোস্ট প্রকাশ ও অন্যের পোস্ট শেয়ার করেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁর কথিত দ্বিমুখী আচরণ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ঘটনা, সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।আনোয়ার চৌকিদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টাপ্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার চৌকিদারের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত পরিচালনাকারী শনাক্তের দাবি‘আমাদের নোয়াখালী’ নামের ফেসবুক ফেক আইডির প্রকৃত পরিচালনাকারী কে, আইডিটি কী উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে এবং সাংবাদিক আজিম মিঞাকে ঘিরে প্রকাশিত ও শেয়ার করা পোস্টগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ উত্তর চান অভিযোগকারীরা।তাঁদের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ শনাক্ত করে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও নাম ব্যঙ্গ করে ফেক আইডি তৈরি, অপদস্ত করা, হয়রানি কিংবা হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকলে, প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।সাংবাদিক আজিম মিঞাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পোস্ট, ব্যক্তিগত আইডিতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার এবং ‘আমাদের নোয়াখালী’ আইডির প্রকৃত পরিচালনাকারী সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনোয়ার চৌকিদারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে। সাইবার তদন্তের আনুষ্ঠানিক ফলাফল বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সেগুলোও প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।