উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’র শাখা অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করে নতুন করে আরেকটি সংগঠন গড়ে তোলার ঘোষণা ঘিরে এলাকায় নতুন করে সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।এ ঘটনায় ‘নয় বাড়ি বাউন্ডারি সংগঠন’ গঠনের ঘোষণা প্রদানকারী জামাল উদ্দিন ওরফে ‘প্যারাসিটামল’, অর্থ প্রদানকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা এবং কবরের ওপর বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগে বিতর্কিত জামাল উদ্দিন ওরফে ‘খোকন’ সুদি খোকন’ এবং পর নারী ধর্ষণকারী বিতর্কিত ওয়ার্ড প্রতিনিধি জানোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসীর একাংশ।এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে—আব্দুল্লাহ বাল সাব্বির, যাঁকে নিয়ে ফেক আইডি ব্যবহার করার তথ্য প্রকাশ পায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘বলাৎকারের সন্তান’ বলে অভিযোগমূলক মন্তব্য করা হয়েছে; ফেক আইডি ব্যবহারকারী ‘জংলি’ ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’; ‘বিকাশ ভাবি জহির’; ‘মূর্খ কাঠমোল্লা জানোয়ার ভন্ড’; মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজের টাকা মেরে খাওয়া এবং মাদ্রাসার ছবি নিজ আইডিতে ব্যবহার করে নিজেকে ধার্মিক পরিচয় দেওয়া একাধিক ফেক আইডি ব্যবহার করে গোপনে ‘গাঁজা সেবনকারী ও ফেক আইডি পরিচালক ইকবাল’; ‘বিতর্কিত লেবাসধারী’ ইসমাইল হোসেন মোহন ওরফে দরবেশ এবং ‘গাঁজার সম্রাট’ শামীম।৩০০ টাকার বারাটে কিছু কামলা ও কিশোর গ্যাং। দুই বছর আগের ঘোষণা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেবের জামে মসজিদের সামনে মসজিদ-মাদ্রাসাকে সাক্ষী রেখে ‘নয় বাড়ি বাউন্ডারি সংগঠন’ নামে একটি সংগঠন গঠনের ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতির বিষয়টি আলোচনায় আসে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই উদ্যোগে ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারের নেতৃত্বের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। পাশাপাশি জামাল উদ্দিন ওরফে ‘প্যারাসিটামল’ এবং জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’-,শৈশবকালে বলাৎকারের শিকার আজিজ আহমেদ ওরফে তোতলা আজিজ, এর ভূমিকা ও অর্থায়নের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসীর একাংশ। তাঁদের দাবি, ওই সময়ের বক্তব্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘোষণার বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।কেন নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এর উদ্দেশ্য কী ছিল এবং আগে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’র শাখা অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করার পেছনে কী কারণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের জবাব চান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ নিয়ে ক্ষোভস্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন সমস্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে সংগঠনটি এলাকায় পরিচিতি লাভ করে।তবে সংগঠনটির শাখা অফিসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং এর পরিবর্তে নতুন সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীর একাংশ। সংগঠনটির মাধ্যমে আগে যাঁরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, উঠছে নানা প্রশ্নএলাকার একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকার অনিয়ম, দুর্নীতি, সুদ-ঘুষ, নারীসংক্রান্ত অভিযোগ, কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। এসব বিষয় প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে তাঁরা সন্দেহের চোখে দেখছেন।তাঁদের একাংশের দাবি, ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার এবং জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’ সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ করার পেছনে ভূমিকা রেখেন। পাশাপাশি জামাল উদ্দিন ওরফে ‘প্যারাসিটামল’-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।জবাবদিহি চান এলাকাবাসীএলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা একটি প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের শাখা অফিসের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার প্রকৃত কারণ কী? নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হলে তার বাস্তবায়ন কোথায়? মসজিদ-মাদ্রাসার সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ কী? সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল?এসব প্রশ্নের জবাব ও ঘটনার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের মতে, সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। বক্তব্য জানতে ফোন, পাওয়া যায়নি সাড়াপ্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’, পৃথক ব্যক্তি জামাল উদ্দিন ওরফে ‘প্যারাসিটামল’ এবং ওয়ার্ড প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বারের বক্তব্য জানতে ফোন করা হয়। তবে তথ্য সংগ্রহের সময় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।