উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকাআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের 'স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়'-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সময় দিয়ে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সুপারিশ করেছে কমিটি।তবে প্রস্তুতির জন্য সময় নেওয়া হলেও আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে বিশদ আলোচনা ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি কে এম সেলিম রেজা হাবিব।বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বেশি থাকে। প্রতিটি কেন্দ্রে ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া উপস্থিতি থাকে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত তৎপরতার প্রয়োজন হয়, যা বজায় রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে প্রস্তুতি দরকার, তা এখনো পুরোপুরি হয়নি।”অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প তদন্ত ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের তাগিদ:বৈঠকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশি-বিজ্ঞাপন ও বৈদেশিক অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করার জোরালো সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, অতীতে কেবল দুর্নীতির উদ্দেশ্যেই অনেক অনাবশ্যক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, “বিগত সরকারের আমলে অনিয়মের উদ্দেশ্যে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো বাদ দিয়ে জনস্বার্থে বাস্তবায়নযোগ্য কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা শতভাগ মেনে চলতে হবে।”ঠিকাদারদের ৩ বছরের ওয়ারেন্টি ও জামানত:গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এখন থেকে ঠিকাদারদের কাজের বিপরীতে তিন বছরের ওয়ারেন্টি প্রদান করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী জামানত জমা রাখতে হবে।ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থা:বর্তমানে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের আর্সেনিকযুক্ত এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সুপেয় ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা ও অনলাইন হাজিরা:সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারি কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। মাঠ পর্যায়ে কাজের স্বচ্ছতা আননে উপজেলা স্তরে সরকারি কর্মকর্তাদের অনলাইনভিত্তিক উপস্থিতি বা হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।সংসদীয় কমিটির এ বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান। এছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।