উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে না পৌঁছানো নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। খবর ছড়িয়ে পড়ে—পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি (ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স) না দেওয়ায় ইউরেনিয়ামের চালানটি বাতিল করতে হয়েছে। তবে ঘটনাটি রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিমান চলাচল সংক্রান্ত কারিগরি ও পদ্ধতিগত জটিলতা বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।বিবিসি উর্দুর সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার জানান, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রটোকল মেনেই সব কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এটি মূলত ফ্লাইট রুট ও অনুমোদন সংক্রান্ত কারিগরি সমন্বয়ের বিষয়, যার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে সাজ্জাদ হায়দার বলেন, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে সঠিক কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। অপ্রয়োজনীয় জল্পনা-কল্পনা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।বিশ্বব্যাপী স্পর্শকাতর পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য প্রতিটি দেশের কাছ থেকে আলাদা ‘ডিপ্লোম্যাটিক ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স’ নেওয়ার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কমিশন (রোসাটম) অবশ্য সরাসরি পাকিস্তানের নাম না উল্লেখ করে জানিয়েছে, সময়মতো আকাশসীমা ব্যবহারের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছে।এক বিবৃতিতে রোসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ চলতি বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েক ধাপে সম্পন্ন হবে।এদিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহে বিলম্ব এবং প্রথম ইউনিটের ‘পিওআরভি ভালভ’-এ দেখা দেওয়া কারিগরি জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রক্রিয়া। তীব্র জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের এই সময়ে রূপপুর থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ পাওয়ার যে আশা করা হচ্ছিল, এ বিলম্বের ফলে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।