উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
দুর্নীতি ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন পাকিস্তান জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে তার ওপর আইনি ও প্রশাসনিক চাপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং আদালতের অবস্থান মিলিয়ে তার আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্যারিয়ার এখন চূড়ান্ত হুমকির মুখে।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে রিজওয়ানকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরার পর থেকেই তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এনসিসিআইএ জানিয়েছে, রিজওয়ান তাদের তদন্তে প্রত্যাশিত সহযোগিতা করছেন না। এভাবে অসহযোগিতা বজায় থাকলে তার বিরুদ্ধে কেবল জাতীয় দল বা পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিষিদ্ধ করাই নয়, বরং কঠোর আইনি ব্যবসাসহ মামলা দায়ের করা হতে পারে।এদিকে, এই বিষয়ে লাহোর হাই কোর্টের শরণাপন্ন হলেও সেখান থেকে বড় ধাক্কা খেয়েছেন এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। এনসিসিআইএ এবং পিসিবির বিরুদ্ধে করা রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন লাহোর হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি আলিয়া নিলম। শুনানিতে রিজওয়ানের আইনজীবী কাজী উমর আলী জানান, লন্ডনের হোটেলে থাকাকালীন কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই রিজওয়ানকে ৩ ঘণ্টার কথা বলে ফোন নিয়ে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি এনসিসিআইএ-এর তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব কেবল আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার (এসিইউ)। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ না করে রিজওয়ানকে পাঠানো নোটিশের যথাযথ আইনি জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।অন্যদিকে, বোর্ডের নিয়মকানুনের কারণে সংবাদমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতেও পারছেন না রিজওয়ান। পিসিবি জানিয়েছে, যেহেতু রিজওয়ান এখনও বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়, তাই বোর্ডের অনুমতি ছাড়া তিনি গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। পিসিবি ইতোমধ্যেই দুইবার তার সংবাদ সম্মেলনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি আইসিসির দ্বারস্থ হয়েছেন রিজওয়ান। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে এক আবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে চেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে চলা তদন্ত বা গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আইসিসি ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড অবহিত কি না। রিজওয়ান সাইবার অপরাধ তদন্তকারী সংস্থার কাছে প্রশ্ন তুলেছেন—একজন সক্রিয় ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও কেন আইসিসির আকসুকে (ACU) পাশ কাটিয়ে সাইবার ক্রাইম এজেন্সি এই তদন্ত করছে? একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছেন, যেন তিনি নিরপেক্ষভাবে তদন্তে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন।উল্লেখ্য, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একাধারে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় এই বিতর্ক আরও জটিল রূপ নিয়েছে। কারণ সাইবার ক্রাইম তদন্তকারী সংস্থাটি সরাসরি তার মন্ত্রণালয়ের অধীনেই পরিচালিত হয়। তবে এ বিষয়ে মহসিন নাকভি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে রিজওয়ানের ক্রিকেট ক্যারিয়ার প্রায় শেষ হতে বসেছে বলেই ধারণা করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।