উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
সুদের কারবার, ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ, সম্পদের বিস্তার ও কবরের ওপর ভবন নির্মাণ—অনুসন্ধানে উঠছে নানা প্রশ্ননোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে নেমেছে আমাদের অনুসন্ধানী টিম।ঢাকার চকবাজার-বেগমবাজার এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জামাল উদ্দিনের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, আর্থিক উত্থান, সুদের কারবার এবং সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে নানা তথ্য ও অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্বল্প বেতনের চাকরি থেকে বিপুল সম্পদের মালিক—উত্থানের নেপথ্যে কী?অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীর বক্তব্যে জানা যায়, জামাল উদ্দিন একসময় একটি ব্যবসায়ী সমিতিতে স্বল্প বেতনের চাকরি করতেন। পরবর্তী সময়ে তার আর্থিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং তিনি বিভিন্ন সম্পদ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।ব্যবসায়ী মহলের কয়েকজনের অভিযোগ, সমিতির অর্থ লেনদেন ও ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অর্থের লেনদেন করা হতো। বড় অঙ্কের ব্যাংক লেনদেন ও ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আর্থিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।তবে এসব অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা নির্ধারণে ব্যাংক নথি, ঋণের কাগজপত্র, হিসাব বিবরণী ও ব্যবসায়িক নথি যাচাই প্রয়োজন।সুদের কারবার নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনজামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’কে নিয়ে পূর্বে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যমান বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে তাকে সুদের কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।বেগমবাজারের ব্যবসায়ী সোলেমান-এর ঘটনাটিও এ আলোচনায় সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সোলেমানের বক্তব্য ও অভিযোগের সূত্র ধরে বলা হয়েছে, সুদের অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি তার দোকান ও বাড়ি হারিয়েছেন।এছাড়া আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী সুদের অর্থের চাপে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এমন অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এসেছে।সম্পদের বিস্তার নিয়েও প্রশ্নঅনুসন্ধানে স্থানীয় ও ব্যবসায়ী মহলের কাছ থেকে দাবি পাওয়া গেছে, পরবর্তী সময়ে জামাল উদ্দিন একাধিক বাস, ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে সম্পত্তি, নোয়াখালীর চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় জমি এবং গ্রামের বাড়িতে স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।এসব সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।প্রশ্ন হচ্ছে—তার ব্যবসায়িক আয়, ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য কতটুকু?বকসিমিয়ার কবরের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগজামাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়িতে নির্মিত ভবনটি বকসিমিয়ার কবরের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ নিয়ে আগেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা-এর সাংবাদিক জুনায়েদের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই বাড়ির বাসিন্দা মৃত নূর মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন, ভবন নির্মাণের ওই স্থানে আগে কবরস্থান ছিল এবং বর্তমান ভবনটি মূলত কবরের ওপর নির্মিত।এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে জমির দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, পুরোনো ছবি, স্থানীয় সাক্ষ্য এবং নির্মাণসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।প্রতিবাদের পর পাল্টা প্রচারণার অভিযোগজামাল উদ্দিনকে নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রচারণার অভিযোগও সামনে এসেছে।অভিযোগ রয়েছে, তাকে সামাজিকভাবে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন এবং সমালোচনার জবাব দিতে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও এমন প্রচারণায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।সাম্প্রতিক সময়ে তার ছোট ভাই ইকবাল-এর নামও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইডি, পোস্ট ও ভিডিওর উৎস যাচাই প্রয়োজন।এখন প্রশ্ন—অর্থের উৎস কোথায়?জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’কে ঘিরে দীর্ঘদিনের আলোচনার মূল প্রশ্নগুলো হলো—তার আর্থিক উত্থানের প্রকৃত উৎস কী, সুদের কারবারের অভিযোগের ভিত্তি কতটুকু, ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অভিযোগের পেছনে কী তথ্য রয়েছে এবং তার বিভিন্ন সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে?একই সঙ্গে কবরের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগের বাস্তবতাও নথি ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।আমাদের অনুসন্ধানী টিম ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখছে।অভিযোগের পক্ষে নথি থাকলে তা সামনে আসবে, অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য হলে সেটিও প্রকাশ করা হবে।এই অনুসন্ধানের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তিকে হেয় করা নয়; বরং দীর্ঘদিনের আলোচিত অভিযোগগুলোর পেছনে থাকা তথ্য, নথি ও বাস্তব চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরা।